সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: রঘুনাথপুর-২ ব্লকে ভিসিটি(ভেক্টর কন্ট্রোল টিম) নিয়োগের তালিকা ভাইরাল হয়েছে। সেই তালিকায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষের ভাইপো, অঞ্চল সভাপতির স্ত্রী সহ দলের ব্লক সহ সভাপতি ও জেলা নেতৃত্বের পরিবারের সদস্যদের নাম রয়েছে। যা নিয়ে ব্যাপক শোরগোল পড়েছে। নিয়োগ বন্ধের দাবি জানিয়ে বিজেপির তরফে ইতিমধ্যে ব্লক প্রশাসনকে ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে তালিকাটি ভুয়ো বলে জানানো হয়েছে। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, এরকম কোনও সরকারি তালিকার অস্তিত্ব নেই।
ভিসিটি কর্মীদের কাজ হল ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া প্রবণ এলাকায় সাফাইয়ের কাজ করা। পাশাপাশি ব্লিচিং ছড়ানো। সম্প্রতি রঘুনাথপুর-২ ব্লকে ভিসিটি(ভেক্টর কন্ট্রোল টিম) নিয়োগের একটি তালিকা ভাইরাল হয়। ওই তালিকায় ভিসিটি সদস্য হিসেবে মোট ৩৬ জনের নাম ও মোবাইল নম্বর দেওয়া রয়েছে। তালিকায় যতগুলি নাম রয়েছে সকলে ছ’টি পঞ্চায়েত এলাকার তৃণমূল নেতা নাহলে নেতার পরিবারের সদস্য।
পুরুলিয়া জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অসীম চট্টোপাধ্যায় বলেন, তালিকায় পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষদের ভাই, ভাইপো, তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি স্ত্রী, তৃণমূল নেতাদের নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিডিওকে ডেপুটেশন দিয়েছি। যদিও বিডিও সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, তালিকা সম্পর্কে তিনি অবহিত নন। কেউ কাজে যোগদান করেনি। বিষয়টি নিয়ে বিডিওকে আমরা লিখিত দিতে বললে তিনি আমাদের লিখিত দেননি। আর তাতেই আমাদের সন্দেহ হয়েছে। হয়তো চুপিসারে পরে তাঁদের কাজে নিয়োগ করা হবে। আমরা এখন চুপ রয়েছি। তবে আগামী দিনে যদি ওই তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তিরা ভিসিটি হিসেবে কাজ করেন, তাহলে আমরা ব্লক প্রশাসনের বিরুদ্ধে তালিকাটি ধরে হাইকোর্টে মামলা দায়ের করব।
তালিকায় নাম থাকা তৃণমূল ব্লক সহ-সভাপতি প্রভাস বাউরি বলেন, তালিকাটি দেখার পর আমিও হতবাক হয়েছি। ওই তালিকায় কীভাবে আমার নাম ঢুকল, নিজেও বুঝে উঠতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েত সমিতি, ব্লক প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বকে জানানো হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ বাউরি বলেন, যে তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে তার কোনও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি। তালিকায় অনেকেরই নাম রয়েছে। তালিকাটি কীভাবে প্রকাশিত হয়েছে, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রয়েছি।
রঘুনাথপুর-২ ব্লক তৃণমূলের যুব সভাপতি তথা জেলা পরিষদ সদস্য অভিজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন, সম্প্রতি কেন্দ্রের বাজেটে পুরুলিয়াকে কিছুই দেওয়া হয়নি। বিজেপি বাজেটের বিষয়টি অন্যদিকে ঘোরাতে একটি ভুয়ো তালিকা নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে।
রঘুনাথপুর-২ বিডিও পঙ্কজ দাস বলেন, সাধারণত কোনও নিয়োগের ক্ষেত্রে নোটিফিকেশন বের হয়। অথবা ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়। কিন্তু, যে তালিকার কথা বলা হচ্ছে আমাদের সেই বিষয়ে কোনও কিছুই জানা নেই। তাছাড়া ওই তালিকায় কারও কোনও স্বাক্ষর নেই।