• বাঁকুড়ায় সেচ সমস্যা মেটাতে ১৫টি চেক ড্যাম
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: বাঁকুড়া জেলায় সেচের সমস্যা মেটাতে বেশ কয়েকটি চেক ড্যাম তৈরি করছে জেলা পরিষদ। জেলার পশ্চিম প্রান্তের ব্লকগুলিতে প্রচুর জোড়বাঁধ রয়েছে। ওইসব এলাকা খরা প্রবণ হিসেবেও চিহ্নিত। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্লকে চাষের জমিতে সেচের জল পৌঁছে দিতে চেক ড্যাম তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। খাতড়া মহকুমা সহ জেলার অন্যান্য প্রান্তেও সেচের সুবিধার জন্য চেক ড্যাম তৈরি করা হচ্ছে বলে জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। 


    বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায় বলেন, চলতি বছরে জেলায় আমরা ১৫টি চেক ড্যাম তৈরি করছি। তারজন্য মোট সাড়ে ছ’কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নতুন চেক ড্যাম তৈরির পাশাপাশি পুরনোগুলির সংস্কারেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। চেক ড্যামে জল সরবরাহের জন্য জোড়বাঁধ বা ছোট নদীনালাগুলি সংস্কারের প্রয়োজন। বেশিরভাগ জোড়বাঁধ মজে গিয়েছে। সেগুলি সংস্কার করলে জলধারণ ক্ষমতা বাড়বে। ফলে সেসবের উপর তৈরি চেক ড্যামে অনেক বেশি জল জমা হবে। তিনি আরও বলেন, এবার মুকুটমণিপুর জলাধারের বিস্তীর্ণ অংশ শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল। ফলে এবার ওই জলাধার সংস্কারের সুযোগ পাওয়া যায়। জলাধার সংস্কারের জন্য ৪০কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। সেচদপ্তর ওই কাজ করছে। 


    উল্লেখ্য, রুখাশুখা বাঁকুড়া জেলায় দীর্ঘদিন ধরেই সেচের সমস্যা রয়েছে। জলের অভাবে বহু জমিতে চাষবাস হয় না। জেলার চাষিদের আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। কোনওরকমে আমন ধান রোপণ করলেও অনাবৃষ্টির ফলে বেশিরভাগ বছর ভালো ধান হয় না। প্রতি বছরই ফলন মার খায়। চাষ সেভাবে না হওয়ায় খেতমজুররাও কাজ পান না। তাঁদের কাজ করতে পূর্ব বর্ধমান, হুগলি সহ আশপাশের জেলায় যেতে হয়। সমস্যা সমাধানে মকুটমণিপুর জলাধার তৈরি হয়েছিল। কিন্তু, কংসাবতী নদীর জল ওই জলাধারকে প্রতি বছর পুষ্ট করতে পারে না। ফলে সেখান থেকে জল ছাড়ার বিষয়টি অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। সময়ে জলাধার থেকে চাষিরা জল পান না বলে অভিযোগ। আবার কোনও কোনও বছর অতিরিক্ত জল ছাড়ার জন্য ফসল ক্ষতিগ্রস্তও হয়। 


    সেচদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বাঁকুড়ায় বড় জলাধার করার মতো জায়গা পাওয়া মুশকিল। ফলে ছোট ছোট চেক ড্যাম করেই সমস্যার সমাধান করতে হবে। জেলা পরিষদের পাশাপাশি আমরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছি। কীভাবে জেলায় সেচসেবিত কৃষি জমির পরিমাণ বৃদ্ধি করা যায় সেব্যাপারে আলোচনা চলছে। আগামী দিনে চাষিদের সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)