• ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ২৫০, ম্যালেরিয়ায় আর ৪৫০ জন
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চলতি বছর মুর্শিদাবাদ জেলায় প্রায় ২৫০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। জুলাই মাস পর্যন্ত ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৪৫০। ভারী বৃষ্টি শুরু না হলেও কয়েক পশলা বৃষ্টিতে জমা জলে মশার উপদ্রব বাড়ছে। মশাবাহিত রোগের তালিকায় একদম প্রথম সারিতে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। জেলায় এখনও পর্যন্ত লালগোলা, বেলডাঙা-১ ও ২ ব্লক এবং হরিহরপাড়া ব্লকে সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে। তবে জেলায় ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া আক্রান্ত অনেক রোগী ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে জ্বর নিয়ে জেলায় ফিরছেন। পরীক্ষায় ফ্যালসিফেরাম বা ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া ধরা পড়ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গু আক্রান্তের খবরে উদ্বেগ বেড়েছে। 


    জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গতবছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত প্রায় ৩৫০জন ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলেছিল। এবছর এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ২৪৫। তবে জেলায় লাগাতার ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। গতবছর জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৩৭০জন ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হয়েছিলেন। এবার ম্যালেরিয়ায় ৪৫০জন আক্রান্ত হয়েছেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, আমরা সবসময় তৎপর রয়েছি। সর্বত্রই মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি ব্লকের স্বাস্থ্যদপ্তর উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে।


    চিকিৎসকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, গত কয়েকদিনে লাগাতার প্রতিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগী ভর্তির সংখ্যা বেড়েছে। ধারাবাহিকভাবে জেলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। তবে দু’সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটা বেড়েছে বলেই জানা গিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগে বাধ্য হয়ে নিজের জেলায় ফিরে আসছেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। তারপর তাঁরা হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হচ্ছেন। তাঁদের ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় জেলায় অনেকটাই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়িয়ে দিয়েছে বলেই দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। 


    স্বাস্থ্যকর্তারা বলছেন ওড়িশা, ছত্তিশগড়, কেরল, তামিলনাড়ু, ঝাড়খণ্ড রাজ্য থেকে বহু পরিযায়ী শ্রমিক এইসময় বাড়ি ফিরছেন। তাঁদের মধ্যে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। অতিরিক্ত জ্বর নিয়ে কাহিল হয়ে জেলায় নিজের বাড়িতে ফিরে এসেই গ্রামীণ হাসপাতাল কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বারস্থ হচ্ছেন বহু যুবক। তাঁদের রক্ত পরীক্ষায় ফ্যালসিফেরাম বা ম্যালিগন্যান্ট ম্যালেরিয়া ধরা পড়ছে। অধিকাংশ শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজে গিয়ে মশারি ছাড়াই ঘুমান। আর তার জেরেই মশাবাহিত রোগ বাড়ছে। 


    মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের বাসিন্দা কামালউদ্দিন গাজি বলেন, ওড়িশার মালকানগিরি এলাকায় কাজ করতাম। সেখানে মশার উপদ্রব অনেক বেশি। রাতে মশারি ছাড়াই ঘুমাতাম। কয়েকদিন ধরে জ্বর কিছুতেই কমছিল না। তাই বাড়ি চলে এসেছি। এখানে এসে ম্যালেরিয়া ধরা পড়ে। তবে আগের থেকে এখন অনেকটাই সুস্থ আছি।
  • Link to this news (বর্তমান)