• কলকাতা ও রাজ্য পুলিসে নিয়োগের আবেদনপত্র সহ গ্রেপ্তার ২, চাঞ্চল্য
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: কলকাতা পুলিস ও রাজ্য পুলিসে নিয়োগের জন্য ৬০০টি আবেদনপত্র! সঙ্গে আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার নানা আসল নথি। গত বুধবার গভীর রাতে তিনটি ব্যাগে ভরে এই আবেদনপত্রগুলি নিয়ে রানাঘাট স্টেশন সংলগ্ন রেল ইয়ার্ডে ঘোরাফেরা করছিল দুই যুবক। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক দেখে ব্যাগ সহ তাদের আটক করে আরপিএফ। পরে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের নাম শান্তনু পাল ও অর্পণ মিত্র। এরা দু’জনেই নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাজদিয়া চন্দননগরের বাসিন্দা। আবেদনপত্রগুলি আসল কি না এবং এই ধরনের প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কে বা কারা জড়িত রয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রেল পুলিস।


    পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে রানাঘাট স্টেশন থেকে বেশ কিছুটা দূরে থাকা রেলওয়ে ইয়ার্ডে দুই যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখেন কর্তব্যরত আরপিএফ কর্মীরা। দু’জনের পিঠে দু’টি ব্যাগ ও একটি ট্রলিব্যাগ ছিল। সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ এমন জায়গায় ওই দু’জন কী করছে জানতে চাইলে তারা রেল পুলিসকে উত্তর দিতে পারেনি। তাদের অসংলগ্ন কথাবার্তা শুনে দু’জনকেই আরপিএফ অফিসে নিয়ে আসে পুলিস। ট্রলি ব্যাগ ও পিঠের ব্যাগগুলি খুলতেই ভিতর থেকে ১৩টি লেদার ফাইল বের করা হয়। সেই ফাইলগুলিতে কলকাতা পুলিস ও রাজ্য পুলিসের কনস্টেবল পদে নিয়োগের জন্য ৬০০টি আবেদনপত্র ছিল। সেইসঙ্গে ব্যাগ থেকে আবেদনকারীদের নথিও উদ্ধার করে পুলিস।


    প্রাথমিক তদন্তে রেল পুলিস জানতে পেরেছে, দমদমের এম বাজার এলাকার এক ব্যক্তি কয়েক মাস আগে ওই দুই যুবককে ডেকে পাঠিয়েছিল। ৭লক্ষ টাকার বিনিময়ে সে বিভিন্ন সরকারি চাকরিতে নিয়োগ করে দেবে বলে মধ্যস্থতাকারীদের টোপ দিত। অভিযুক্ত শান্তনু ও অর্পণকেও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বেছে নিয়ে সে তাদের চাকরিপ্রার্থী জোগাড় করে নিয়ে আসার জন্য বলে। চাকরিপ্রার্থী পিছু চার লক্ষ টাকা করে কমিশন দেবে বলে তাদের লোভ দেখায়। ধরা পড়া দুই অভিযুক্ত বিভিন্ন জায়গা থেকে ছ’জন চাকরিপ্রার্থীকে জোগাড়ও করে দিয়েছিল। কিন্তু, আরও বড় প্রতারণা করতে গিয়ে তারা ধরা পড়ে যায়।


    বৃহস্পতিবার ধৃত দু’জনকে রানাঘাট রেল কোর্টে পেশ করে পুলিস। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে পূর্বের একটি ঘটনার মিল রয়েছে বলে মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জ থানার পুলিস তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে নিতে চায়। কিন্তু, বহরমপুর জেলা পুলিসের তরফে জানানো আবেদনে ত্রুটি রয়েছে বলে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদনটি প্রথমেই খারিজ করে দেন বিচারক। পাশাপাশি ‘পদ্ধতিগত ভুল’ থাকার জন্য দুই অভিযুক্তকে জামিনের নির্দেশও দেন বিচারক। রেল কোর্টে সরকারিপক্ষের আইনজীবী না থাকায় জামিনের বিরোধিতা নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।


    অভিযুক্তপক্ষের আইনজীবী রাজা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, যে ব্যাগগুলি আমার মক্কেলদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিস দাবি করেছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। জিয়াগঞ্জ থানার পুলিসের ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদনেরও ভিত্তি নেই। আইনজীবী মহলের একাংশের দাবি, এই প্রতারণা কাণ্ডে যে সমস্ত ধারা প্রয়োগ করে কোর্টে পাঠানোর প্রয়োজন ছিল, তার কোনওটিই প্রয়োগ করতে পারেনি রেল পুলিস।
  • Link to this news (বর্তমান)