• পটাশপুরে চারশো বছরের পুরনো বটগাছ কাটা রুখে দিলেন বাসিন্দারা
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাঁথি: পরিবেশ রক্ষা করতে সর্বত্র সবুজায়নে জোর দেওয়া হচ্ছে, সবুজ বাঁচাতে আন্দোলন চলছে। আর সেখানে পটাশপুরের চারশো বছরের প্রাচীন বটগাছ কেটে দিতে উঠে পড়ে লেগেছে একটি পরিবার। ঘটনাটি পটাশপুর-১ ব্লকের টেপরপাড়া এলাকায়। বিষয়টি নজরে আসতে সরব হয়েছেন এলাকার বাসিন্দা এবং পরিবেশপ্রেমীরা। তাঁরা গাছ কাটা বন্ধ করে দেন। গাছের সামনে ‘এত পুরনো গাছ কাটা হল কেন জবাব দাও’ প্ল্যাকার্ডও ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। উল্লেখ্য, বহু প্রাচীন এই বটগাছটিকে নিয়ে এলাকার মানুষ গর্ব করেন। বটগাছটি এলাকার মানুষের আশ্রয়স্থল। গাছের মোটা গুঁড়ি রয়েছে। ডালপালা থেকে নেমেছে অনেক ঝুরি। এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, কয়েকদিন ধরে দেখা যাচ্ছে, বটগাছটির বড় বড় ঝুরি কেটে দেওয়া হচ্ছে। কেটে দেওয়া হয়েছে গুঁড়ির একটি অংশ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী দিনে বটগাছটির কোনও অস্তিত্ব থাকবে না] এমনটাই বলছেন তাঁরা। এই আশঙ্কাতেই গ্রামবাসী ও পরিবেশপ্রেমী মানুষজন একজোট হয়ে গাছের প্রাণরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। 


    স্থানীয় বাসিন্দা পুলিন গিরি বলেন, এভাবে বটগাছটি কাটা শুরু হতেই আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে থামিয়ে দিই। বর্তমানে গাছ কাটা বন্ধ রয়েছে। তাছাড়া এটি পাঁচ-সাত পুরুষের গাছ। গাছটি থাকলে পরিবেশ ভালো থাকবে। আমরাও বাঁচব। বনদপ্তর সহ বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছি। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদন জানানো হয়েছে। 


    যাঁদের বিরুদ্ধে গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে, সেই বাড়ির কর্তা বিশ্বব্রত জানা বলছেন, বটগাছটি থাকার জন্য আমার জায়গায় জল পড়ছে। ক্ষতিও হচ্ছে। আমাদের নিজস্ব জায়গা নেই। সেকারণে আমরা গাছটি কেটেছিলাম। তবে গ্রামবাসীরা আপত্তি জানানোর পর আর হাত দিইনি। বনদপ্তরের এগরা বিভাগের আধিকারিক অঙ্কন পণ্ডা বলেন, এবিষয়ে আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে খোঁজখবর নিয়ে নিশ্চয়ই ব্যবস্থা নেব। পটাশপুরের অমরপুরের বাসিন্দা পরিবেশবিদ সোমনাথ দাসঅধিকারী বলেন, শুধু পটাশপুর নয়, সর্বত্র এভাবে সবুজের ধ্বংসলীলা চলছে। কোথাও এককভাবে, আবার কোথাও সম্মিলিতভাবে। প্রতিবাদে এলাকার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষজনকে এভাবেই এগিয়ে আসতে হবে। 
  • Link to this news (বর্তমান)