• তিস্তা চুক্তি হলে শুকিয়ে যাবে উত্তরবঙ্গ মমতার বক্তব্যের সঙ্গে সহমত বিশেষজ্ঞরা
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: তিস্তা চুক্তি হলে শুকিয়ে যাবে উত্তরবঙ্গ। মাছ থেকে সব্জি ও ধান চাষ, এমনকী জল প্রকল্পও মুখ থুবড়ে পড়বে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে জলবণ্টন সংক্রান্ত আলোচনা এগতেই এমন আশঙ্কা করছেন পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী থেকে ভূগোলবিদরা। সকলেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেই ‘সিলমোহর’ দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রতিবেশী দেশকে জল দেওয়ার আগে ড্রেজিং করে তিস্তাকে বাঁচানো উচিত। 


    উত্তরবঙ্গের প্রধান নদীগুলির মধ্যে তিস্তা অন্যতম। উৎপত্তি সিকিমে। সেখান থেকে কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ও হলদিবাড়ি হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে তিস্তা। ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তিস্তার জল বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ঘোর আপত্তি তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, তিস্তার জল বাংলাদেশকে দেওয়া যাবে না। উত্তরবঙ্গের পরিবেশ আন্দোলনকারী অনিমেষ বসু বলেন, ‘গত অক্টোবরে সিকিমে হ্রদ বিস্ফোরণের জেরে তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। পলি এবং বালির জেরে নদীর নাব্যতা কমেছে। জল ধারণ ক্ষমতা কমেছে তিস্তার। যারফলে শুখা মরশুমে নদীতে আর জল থাকে না বললেই চলে। এই অবস্থায় বাংলাদেশকে তিস্তার জল দেওয়া হলে শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গ শুকিয়ে যাবে। এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান সঠিক। জল বণ্টন চুক্তি করার আগে ড্রেজিং করে তিস্তার নাব্যতা বাড়ানো উচিত। একমাত্র তা হলেই বাঁচবে এই নদী। 


    তিস্তাকে কেন্দ্র করেই রয়েছে সেচ প্রকল্প। শুখা মরশুমে তিস্তা-মহানন্দা লিঙ্ক ক্যানেলের মাধ্যমেই শিলিগুড়ি ও জলপাইগুড়ির ধানের জমিতে দেওয়া হয় জল। সংশ্লিষ্ট ক্যানেলের জলের উপর নির্ভর করেই ফুলবাড়িতে তৈরি হয়েছে শিলিগুড়ির জল প্রকল্প। শুখা মরশুমে তিস্তার জলস্তর নামলে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে সমস্যা হয়। এখন গজলডোবায় তৈরি হচ্ছে শিলিগুড়ির মেগা জল প্রকল্পের ইনটেক পয়েন্ট। 


    উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক অরিন্দম বসাক বলেন, ‘বর্ষায় তিস্তাতে জল থাকলেও শুখা মরশুমে জলস্তর অনেকটাই কমে যায়। বিশাল এলাকাজুড়ে চর পড়ে। এই অবস্থায় শুখা মরশুমে বাংলাদেশকে তিস্তার জল সরবরাহ করা হলে সেচখালে প্রভাব পড়বে। আমাদের এখানে জমিতে  চাষের জল পৌঁছবে না। শিলিগুড়ি শহরে পানীয় জলের সঙ্কটও দেখা দিতে পারে। অপরিকল্পিতভাব বালি, বোল্ডার তোলার জন্যও নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হয়েছে। এখন নদীতে পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করে তবেই চুক্তি করা উচিত।’ ইতিমধ্যেই এনিয়ে কৃষক ও মৎস্যজীবীরা আতঙ্কিত। গজলডোবার তিস্তপাড়ের মৎস্যজীবী ও কৃষকদের বক্তব্য, বাংলাদেশে জল দেওয়া হলে সেচখাল শুকিয়ে যাবে। মাছ চাষ, বোরো ধান ও সব্জি চাষ বন্ধ হয়ে যাবে। জলের অভাবে জমি পতিত হলে কর্মহীন হবেন প্রচুর চাষি। এর প্রভাব পড়তে পারে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজমেও। তিস্তা ব্যারেজের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, শুখা মরশুমে নদীতে যে পরিমাণ জল থাকে, তা চাহিদার তুলনায় কম। সেচখালের মাধ্যমে সেই জল সমস্ত জমিতে পৌঁছনো সম্ভব হয় না।        
  • Link to this news (বর্তমান)