• এনবিইউ-র হস্টেলে ছাত্রীকে র‌্যাগিং অভিযুক্ত রুমমেটকে শোকজ কর্তৃপক্ষের
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ক্যাম্পাসজুড়ে বড় বড় নোটিস বোর্ড লাগিয়ে পড়ুয়াদের সচেতনতার পাঠ পড়িয়েও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়কে র‌্যাগিং মুক্ত করা যাচ্ছে না। যার জেরে ক্যাম্পাস চত্বরের মহিলা হস্টেলেই র‌্যাগিংয়ের শিকার এক আবাসিক ছাত্রী। তিনি দার্জিলিংয়ের বাসিন্দা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সূত্রে তিনি রানি ভবানী হস্টেলে থাকেন। ওই হস্টেলের আরএক ছাত্রী তাঁকে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন করেছে বলে তাঁর অভিযোগ। বৃহস্পতিবার এমন অভিযোগে উত্তাল হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ছাত্রীটিকে বৃহস্পতিবার শোকজ করেছে। 


    এনবিইউ ক্যাম্পাসের রানি ভবানী হস্টেলে কয়েকদিন ধরেই তৃতীয় সেমেস্টারের দার্জিলিংয়ের এক ছাত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে তাঁরই  রুম মেটের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার নির্যাতিতা ছাত্রী ও তাঁর সহপাঠীরা রেজিস্ট্রারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরই প্রশাসনিক কর্তারা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝতে পেরে জরুরি বৈঠকে বসেন। আপাতত ওই দুই ছাত্রীকে আলাদা রুমে স্থানান্তরিত করেছে কর্তৃপক্ষ। 


    র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ সামনে আসতেই অভিযুক্ত ছাত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিতে পারে কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে এমনই জানা গিয়েছে। বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে কর্তারা ঘটনাটি তদন্তের জন্য বোর্ড অব ডিসিপ্লিন রেসিডেন্সিতে পাঠিয়েছেন। ওই বোর্ডের চেয়ারম্যান ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার দেবাশিস দত্ত। তিনি বলেন, ’এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মহিলা হস্টেল সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি। ওঁর থেকেও অভিযোগের বিষয়টি জেনে নেওয়া হয়েছে। প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দুই ছাত্রীকে আলাদা ঘরে রেখেছি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত ছাত্রীকে বোর্ড অব রেসিডেন্সিতে ডাকা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 


    এদিন ওই ছাত্রী বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করছিল এক রুম মেট। শৌঁচালয়ে যেতে বাধা, ঘুমন্ত অবস্থার ছবি তুলত সে।’ এমনকী খাবার সময় উত্যক্ত করার মতো অভিযোগও তুলেছেন নির্যাতিতা। ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা। আপাতত সম্পূর্ণ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব রেসিডেন্সি। ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসের সবক’টি গার্লস হস্টেলের ইনচার্জদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলে। রাতে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কোনও ছাত্রীর তরফে কোনও ধরনের অভিযোগ থাকলে সেই ঘটনা যেন চেপে যাওয়ার চেষ্টা না করা হয়, সেই বার্তাও দেওয়া হয়। কারণ  র‍্যাগিংয়ের শিকার ওই ছাত্রীটি কয়েকবার হস্টেল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানালেও ঘটনাটি হাল্কাভাবে নেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ। স্বাভবিকভাবেই কয়েকদিন ধরে রুম মেটের অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে হয়েছে ওই ছাত্রীটিকে। 


    এদিন রেজিস্ট্রারকে অভিযোগ জানাতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন তৃতীয় সেমেস্টারের ছাত্রীটি। তাঁর দাবি, তাঁর রুম মেট নানাভাবে অত্যাচার করেছে। বিষয়টি হস্টেল সুপারকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু, কাজ হয়নি। এ প্রসঙ্গে রানি ভবানী হস্টেলের সুপার অমৃতা মণ্ডল বলেন, ‘দু’জনেই একই সেমেস্টারের ছাত্রী। তাই দুই বান্ধবীর বিষয়টি নিজেদের মধ্যেই মিটিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। এতবড় ঘটনা ঘটে যাবে ভাবতেই পারিনি।’ ( ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দপ্তরে ছাত্রছাত্রীরা। - নিজস্ব চিত্র।)
  • Link to this news (বর্তমান)