গোপন অভিসার! প্রেমিকার বাড়ি থেকে পালাতে গুলি ছুঁড়ল যুবক
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: এমন কাণ্ড হবে কে জানত! নাবালিকা প্রেমিকাদের সঙ্গে নিশুতি রাতে অভিসার করতে গোপনে এসেছিল দুই প্রেমিক। গ্রামবাসীরা বাড়ি ঘিরে ফেলায় পালানোর পথ না পেয়ে শেষপর্যন্ত এলোপাথাড়ি গুলি চালিয়ে চম্পট দিতে হয় তাদের।
গাজোল থানার একটি গ্রামে নাবালিকার বাড়ি। মাসখানেক আগে তার বাবা ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়েছেন। মা মারা গিয়েছেন প্রায় আটবছর আগে। নাবালিকার পরিবারে সেই অর্থে আর কেউ নেই।
বুধবার নাবালিকার দুই বান্ধবীও ওই বাড়িতে হাজির হয়েছিল। তাদের মধ্যে দু’জনের প্রেমিক রাতে সেখানে দেখা করতে এসেছিল বলে অভিযোগ বাসিন্দাদের। বাইরের দুই অচেনা যুবককে গ্রামে দেখে প্রথমেই সন্দেহ হয়েছিল বাসিন্দাদের। তাঁরা চুপিসারে ওই দুই আগন্তুকের গতিবিধি লক্ষ্য করছিলেন। ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণ পরই গ্রামের কয়েকজন যুবকদের হাঁক দেন। স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই প্রেমিক প্রথমে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করে। গ্রামের আরও কয়েকজন সেখানে হাজির হওয়ার পর আর ঝুঁকি নেয়নি দুই রোমিও। তাঁরা আচমকা ঘর থেকে বেরিয়ে গুলি চালিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। গ্রামবাসীরাও ওই দুই যুবকের পিছনে ধাওয়া করেন। যদিও তাদের ধরতে পারেননি গ্রামবাসীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় গাজোল থানার পুলিস। বাসিন্দাদের আতঙ্ক দূর করতে আধিকারিকরা রাতভর গ্রামে টহল দেন।
ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল উদ্ধার হয়েছে। তিন নাবালিকাকে থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে যুবকদের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিস। গাজোল থানার এক আধিকারিক বলেন, ওই বাড়িতে মোট তিন নাবালিকা ছিল। তার মধ্যে দু’জনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে দুই যুবকের। সেই টানে তারা বাইরে থেকে গিয়ে রাতে হাজির হয়েছিল। কত রাউন্ড গুলি চালিয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়।
গাজোলের খারনুনা প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক গদাধর রায় বলেন, গুলি চালানোর ঘটনা মারাত্মক বিষয়। আগে অন্য ব্লকে গুলি চলত। এখন দেখছি আমাদের এলাকাতেও দুর্বৃত্তদের দাপট বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাদের পরিবার খুবই দুঃস্থ। তিনজনই ভাওয়াইয়া গানের সঙ্গে যুক্ত। কয়েক বছর ধরে তারা গানবাজনা করে রোজগার করে। কাজের সূত্রেই নাবালিকা ও যুবকদের পরিচয় হয়। বাসিন্দাদের একাংশ বলছেন, আগেও গ্রামে রাতে অচেনা যুবক এসেছিল। তারাই এদিন দেখা করতে এসে গুলি চালিয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না কেউ।
স্থানীয় এক যুবক বলেন, আমরা রাতে শুয়েছিলাম। খবর পাই বাইরের দু’জন যুবক গ্রামে ঢুকেছে। কয়েকজন মিলে ওই বাড়িতে গিয়ে ডাক দিতেই বেপড়োয়া হয়ে গুলি চালায় আগন্তুকরা। আমাদের কয়েকজন ধাওয়া করলেও তাদের নাগাল পাওয়া যায়নি। যুবকরা চম্পট দেয়।