• চালুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের বন্ধ সিকিমের লাইফ লাইন
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: ফের ধস। চালুর একদিনের মধ্যেই বিপর্যস্ত কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন। বৃহস্পতিবার বিকেলে কালিম্পংয়ে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের ২৭ ও ২৯ মাইলে ধস নামে। যার জেরে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির জেরে ধস সরানোর কাজও থমকে। এনিয়ে উদ্বিগ্ন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের বক্তব্য, আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তাটি বন্ধ হলে ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হবে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে জেলা প্রশাসন।


    কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুহ্মণ্যম টি বলেন, প্রচণ্ড বৃষ্টির জেরে এদিন বিকেলে ২৭ ও ২৯ মাইলে ধস নামে। তা সরিয়ে রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে পূর্তদপ্তর। সমগ্র পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়ছে।


    টানা এক মাস বন্ধ থাকার পর বুধবার সকালে রাস্তাটি চালু করে পূর্তদপ্তর। ওইদিন সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ছোট যানবাহন চলাচল করেছে। সেইমতো এদিন সকাল থেকেও রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। দুপুরের পর জোর বৃষ্টি নামতেই ফের ধসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে রাস্তাটি। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাতীয় সড়কের ২৭ ও ২৯ মাইলের মধ্যে দু’জায়গায় পাহাড় থেকে হুড়মুড়িয়ে নেমে এসেছে মাটি, নুড়ি, বোল্ডার ও গাছ। সংশ্লিষ্ট দু’টি জায়গাই অবরুদ্ধ। তাই রাস্তাটি দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।


    প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। তাই চেষ্টা করেও রাস্তা থেকে ধস সরানো সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলে সেখান থেকে ধস সরিয়ে রাস্তাটি স্বাভাবিক করা হবে। সেখানে আর্থমুভার সহ সরঞ্জাম নিয়ে তাঁবু খাটিয়ে আছেন পূর্তদপ্তরের কর্মীরা। তবে চলতি বর্ষায় ধস ও নদী ভাঙনের জেরে কালিম্পংয়ে রাস্তাটির প্রায় ৬০টি জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যারমধ্যে ২৫টি জায়গা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড় কেটে সেগুলিতে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে।


    ধস ও তিস্তা নদীর ভাঙনের জেরে ৩০ জুন থেকে রাস্তাটি বন্ধ ছিল। এটি কালিম্পং ও সিকিমের লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত। ট্যুর অপারেটররা বলেন, ছ’বছর আগে পাহাড়ে আন্দোলনের জেরে দীর্ঘদিন রাস্তাটি বন্ধ ছিল। এরপর কোভিডের জেরে প্রায় দু’বছর পর্যটন ব্যবসা মার খায়। সেইসব ধাক্কা সামলে পর্যটন ব্যবসা কিছুটা গতি পেয়েছিল। এই অবস্থায় এক মাস রাস্তাটি বন্ধ থাকায় ব্যবসায় ব্যাপক লোকসান হয়। আবার রাস্তাটি বন্ধ হওয়ায় পর্যটন ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় পড়েছি। ১৫ আগস্টের আগে রাস্তাটি না খুললে ব্যবসায় লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।
  • Link to this news (বর্তমান)