নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অনেকেই আছেন, যাঁরা গাড়িতে নীলবাতি পান না। অথচ দেখা যাচ্ছে, দিব্যি নীলবাতি লাগানো গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আবার এমনও আছে, নীলবাতি লাগানো গাড়িতে যে বোর্ড রয়েছে, যিনি গাড়ি চড়ছেন, তিনি সেই ব্যক্তিই নন। অন্য কেউ চড়ছেন। বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন সূত্র থেকে এমন অভিযোগ আসছিল। তারই ভিত্তিতে অভিযান শুরু হয়েছে জলপাইগুড়িতে।
নীলবাতি লাগানো সন্দেহজনক গাড়ি দেখলেই দাঁড় করিয়ে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হচ্ছে। সন্তোষজনক উত্তর না পেলে সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালককে ধরানো হচ্ছে নোটিস। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলা হচ্ছে। না পারলে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়িতে নীলবাতি লাগিয়ে ঘোরাফেরা করা বেশকিছু গাড়ির চালককে নোটিস দিয়েছে ট্রাফিক পুলিস। শুধু তাই নয়, অভিযান চালিয়ে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি গাড়ি থেকে নীলবাতি খুলে ফেলা হয়েছে।
জলপাইগুড়ি জেলা ট্রাফিকের ডিএসপি অরিন্দম পালচৌধুরী বলেন, ‘কারা গাড়িতে নীলবাতি লাগাতে পারবেন, তা নিয়ে কেন্দ্রের তালিকা আছে। সেই তালিকা ধরেই অভিযান চলছে। তালিকায় না পড়া সত্ত্বেও নীলবাতি লাগানো গাড়ির চালককে নোটিস ধরানো হচ্ছে। তারা যদি নিজেরা নীলবাতি খুলে ফেলেন ভালো, নতুবা ট্রাফিক পুলিস খুলে দেবে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি গাড়ি থেকে নীলবাতি খুলে দেওয়া হয়েছে।’
উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ শহর জলপাইগুড়ি। জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা ছাড়াও এখানে উত্তরের অন্যান্য জেলা থেকেও অফিসারদের প্রচুর গাড়ি আসে। তারমধ্যে অনেক গাড়িতে নীলবাতিও লাগানো থাকে। ফলে ওসব গাড়িতে সবসময় কারা আসছেন, তা বোঝার উপায় থাকে না। ট্রাফিক পুলিসের দাবি, বিভিন্ন সূত্র থেকে তাদের কাছে খবর আসছিল, এমন কিছু গাড়ি প্রতিদিন জলপাইগুড়িতে ঘুরছে, সেসব গাড়িতে যাঁরা ঘুরছেন, তাঁরা আদৌও গাড়িতে নীলবাতি পাওয়ার উপযুক্ত নন। সেকারণেই অভিযান।
সরকারি অফিসের পার্কিংয়ে দাঁড় করানো নীলবাতির গাড়িগুলি সম্পর্কে যেমন খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, তেমনই রাস্তাতেও নীলবাতি লাগানো সন্দেহজনক গাড়ি দেখলে দাঁড় করিয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হচ্ছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে, যাদের এ পর্যন্ত নোটিস ধরানো হয়েছে, তার মধ্যে বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পেরে গাড়ি থেকে নীলবাতি খুলে নিয়েছেন।
এখানেই প্রশ্ন উঠছে, তা হলে এতদিন সেসব গাড়িতে কারা চড়ছিলেন, গাড়িতে নীলবাতি পাওয়ার অধিকার নেই জেনেও তাঁরা কেন লাগিয়েছিলেন? ডিএসপি ট্রাফিকের বক্তব্য, ‘শুধু এটুকু বলব, আমরা সারাক্ষণ সজাগ আছি।’