নদীর চরে পাট্টা দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠল উপপ্রধানের বিরুদ্ধে
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা এলাকায় জমি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করেছে পুলিস প্রশাসন। গ্রেপ্তার হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় তিন হেভিওয়েট নেতা। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস শাসিত ডাবগ্রাম-১ পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বিরুদ্ধে মহানন্দা নদীর চরে পাট্টা দেওয়ার নামে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এমন অবস্থায় উচ্ছেদের আশঙ্কায় রয়েছে সাতমাজুয়া দ্বীপের কয়েকশো পরিবার।
শিলিগুড়ি শহর লাগোয়া সমরনগর সংলগ্ন ডাবগ্রাম-১ পঞ্চায়েতের এই এলাকায় মহানন্দা নদীর বিঘার পর বিঘা চর ও সরকারি জমি দখল করে গড়ে উঠেছে বসতি। সরকারি জমি দখল করে বসতি গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে স্থানীয় তৃণমূল নেতা-নেত্রীদের বিরুদ্ধে মোটা টাকার বিনিময়ে বসতি বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এখানে নদীর চর, সরকারি জমি দখল করে বিক্রি করার ক্ষেত্রে মূল অভিযোগ স্থানীয় উপপ্রধান অবিরাম শৈবের বিরুদ্ধে। টাকার বিনিময়ে বসতি বসানোর পাশাপাশি পাট্টা দেওয়ার নামে বাসিন্দাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তিনি সহ স্থানীয় আরএক তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধে। এঁরা দু’জনেই প্রভাবশালী। তাই ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
সম্প্রতি ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায় এলাকা পরিদর্শনে এসে উপপ্রধান অবিরাম শৈব এবং দলের স্থানীয় নেত্রী প্রতিমা ঠাকুরের বিরুদ্ধে নদীর চর ও সরকারি জমি দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ শোনেন। বিধায়ককে কাছে পেয়ে এলাকার বহু সাধারণ মানুষ তৃণমূলের ওই দুই নেতা-নেত্রীর বিরুদ্ধে পাট্টা দেওয়ার নামে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়ার অভিযোগ করেন।
এলাকার বাসিন্দারা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। পাট্টা পাওয়ার আশায় উপপ্রধান ও ওই নেত্রীকে কষ্টের জমানো সব টাকা দিয়ে আজও পাট্টা পাইনি। ভয়ে কিছু বলতে পারি না। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের একাংশও তাদের এই দুই নেতা-নেত্রীর এ ধরনের কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ। এক তৃণমূল নেতা বলেন, এনিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবু তাঁরা সংযত হননি। যেভাবে নদীর চর দখল হয়েছে তাতে যেকোনও দিন গতিপথ পরিবর্তন করে এখানে মহানন্দা ভয়ঙ্কর চেহারা নিতে পারে।
অভিযোগ, উপপ্রধান নিজেও খাস জমি দখল করে বাড়ি বানিয়েছেন। যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত অবিরাম শৈব। তিনি বলেন, ‘আমি জমির দালালি করি না। নদীর চর দখল করে বসতি বসাইনি। আর পাট্টা দেওয়ার জন্য মানুষ দুয়ারে সরকারে আবেদন করেছে। তাই পাট্টা দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তবে যারা দুয়ারে সরকারে পাট্টার জন্য আবেদন করেছিলেন তারা এখনও পাট্টা পাননি। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’