• বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভে অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীরা
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: নতুন এজেন্সি দায়িত্ব পেতেই কাজ গিয়েছে রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশ অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীর। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী হিসেবে চিহ্নিত বলেই নতুন এজেন্সি বেছে বেছে ন’জন রক্ষীকে ছাঁটাই করেছে। এর পিছনে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে। এরকমই নানা অভিযোগে সরব হয়ে বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটের সামনে বিক্ষোভ দেখান সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তারক্ষীরা। তাঁদেরকে কাজে পুনর্বহাল করতে স্থানীয় তৃণমূলের একটি প্রতিনিধি দলও এদিন উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে। তবে সমস্যার কোনও সমাধান সূত্র মেলেনি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও বিষয় নয়। সরকারিভাবে টেন্ডার ডেকে নতুন এজেন্সিকে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। গোটা বিষয়টি তাদেরই এক্তিয়ারভুক্ত। 


    নিরাপত্তারক্ষীদের নতুন এজেন্সির তরফে অনির্বাণ দাস বলেন, আমরা সরকারি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে নিয়ম মেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি। আগে যাঁরা কর্মরত ছিলেন, আমরা তাঁদের সবাইকে নিতে পারিনি। তবে যেসব অভিযোগ উঠছে সেসব ভিত্তিহীন।


    ছাঁটাই হওয়াদের মধ্যে জয়ন্ত রায় নামে বিক্ষোভরত এক নিরাপত্তারক্ষী বলেন, আমরা এক বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করছি। আচমকা বুধবার রাতে নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সি মৌখিকভাবে জানিয়ে দেয় আমাদের ন’জনকে আর কাজ করতে হবে না। আমরা যাঁরা তৃণমূল করি, শুধুমাত্র বেছে বেছে তাঁদেরকেই বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের রুটিরুজি বন্ধের চক্রান্ত হয়েছে। তাই আমরা বিক্ষোভে শামিল হয়েছি। 


    আবার ছাঁটাই নিরাপত্তারক্ষীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সারা বাংলা তৃণমূল শিক্ষাবন্ধু সমিতির উত্তর দিনাজপুর জেলা সভাপতি তপন নাগ। তিনি বলেন, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে অন্যায় করল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এমনকী যে এজেন্সিকে রাজনৈতিক অভিসন্ধির জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেটিও সরকারিভাবে কালো তালিকাভুক্ত। এব্যাপারে আগেই বিশ্ববিদ্যালয়কে জানানো হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট। 


    নিরাপত্তারক্ষীদের পাশে দাঁড়াতে রায়গঞ্জ পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কো-অর্ডিনেটর হিমাদ্রী সরকার সহ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এদিন রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেন। পরে হিমাদ্রীবাবু বলেন, রাজনৈতিক কারণে এই জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে বলেছি। 


    রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দীপক রায় বলেন, ছাঁটাই শব্দটার আমরা বিরোধী। কাউকে আমরা ছাঁটাই করিনি। নিরাপত্তারক্ষীদের এজেন্সি নিয়ে অনেকদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ে সমস্যা চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী জরুরি ভিত্তিতে আমরা ইসি বৈঠক করেছিলাম। সেখানে ঠিক হয় টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তারক্ষীদের একটি এজেন্সিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। সেটাই হয়েছে। এবার তারা কাকে বাদ দিয়েছে, কাকে রেখেছে, সেটা জানা নেই। তবে যেধরনের অভিযোগ কিছু মানুষ তুলছে সেসবের কোনও ভিত্তি নেই। আর যদি কেউ মনে করেন কোনও অনিয়ম আছে, তাঁদের জন্য আদালত খোলা আছে। ( রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ অস্থায়ী নিরাপত্তারক্ষীদের। - নিজস্ব চিত্র।)
  • Link to this news (বর্তমান)