সংবাদদাতা, নাগরাকাটা ও রাজগঞ্জ: বৃহস্পতিবার ফের মেটেলি ব্লকের মূর্তি ও দক্ষিণ ধূপঝোরায় সরকারি জমিতে থাকা অবৈধ দু’টি রিসর্ট ভেঙে দেয় প্রশাসন। অর্থ মুভার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় ঘরগুলি। জমি পুনরুদ্ধার করে লাগিয়ে দেওয়া হয় সরকারি বোর্ডও। ব্লক প্রশাসন জানিয়েছে, কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে। তার ভিত্তিতে জমির সমীক্ষা চালিয়ে অভিযানে যাওয়া হচ্ছে। এমন অভিযান চলবে। এদিন দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়। বিশাল পুলিস বাহিনী সহ মেটেলি ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা প্রথমে আসেন মূর্তিতে। রিসর্টের রুম ভেঙে দেওয়া হয়। এরপর দক্ষিণ ধূপঝোরায় চলে অভিযান। ওই রিসর্টেরও ঘর ও বাগান নষ্ট করে দেওয়া হয়। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন, মেটেলির বিডিও অভিনন্দন ঘোষ, মেটেলি থানার আইসি মিংমা লেপচা, মেটেলি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার আধিকারিক সন্তোষ লোহার।
প্রশাসন সূত্রেই জানা গিয়েছে, এরআগে তিনটি রিসর্ট ভাঙা হয়েছে। এই তালিকায় আছে আরও কয়েকটি রিসর্ট। গোরুমারা জঙ্গলের সামনের কয়েকটি রিসর্ট চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। মেটেলি ছাড়াও নাগরাকাটা ব্লকের সুলকাপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি জমি দখল হয়ে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। জলঢাকা নদীর চর দখল করে জমি ঘিরে রাখা হয়েছে। বিডিও জানিয়েছেন, সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করে বোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজগঞ্জ ব্লকের বেলাকোবায় সরকারি আধিকারিকরা বিকেলে বেলাকোবা জেলা শিক্ষক শিখন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের জমি শনাক্তকরণ করতে আসেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের সেখানে প্রায় ১০ একর জমি রয়েছে। সেই জমি মাপজোখ করেন ভূমিদপ্তরের আধিকারিকরা। পাশে পল্লিমঙ্গল এলাকায় সরকারি জায়গায় ৫-৬টি পরিবার বাড়ি বানিয়ে বসে আছে। জমি দখল করে বাড়ি বানানোর কথা তারা স্বীকারও করে। ক্লাবের জন্য বিল্ডিং নির্মাণ হচ্ছে সরকারি জমিতে। কলেজপাড়া ও পল্লিমঙ্গল এলাকায় দু’টি জায়গা মাপজোখ করে তাঁরা চলে যান। বিএড কলেজের প্রিন্সিপাল মিলনকুমার সাহা বলেন, পুরনো কাগজপত্র থেকে জানতে পেরেছি আমাদের প্রচুর জমি পতিত অবস্থায় রয়েছে। সেসব জমি চিহ্নিতকরণ চলছে। জমি পুনরুদ্ধারের জন্য ভূমিদপ্তরের সহযোগিতায় জমির মাপজোখ করা হচ্ছে।