• ২০টি প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়াশূন্য, ছাত্র খুঁজতে বাড়ি যেতে নির্দেশ ডিআইয়ের
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • ব্রতীন দাস, জলপাইগুড়ি: একের পর এক সরকারি প্রাইমারি স্কুল পড়ুয়াশূন্য হয়ে পড়ছে জলপাইগুড়িতে। খোদ সরকারি হিসেব বলছে, জেলায় এই মুহূর্তে ২০টি প্রাইমারি স্কুলে কোনও পড়ুয়া নেই। এর মধ্যে জলপাইগুড়ি শহরেও বেশ কয়েকটি পড়ুয়াশূন্য স্কুল রয়েছে। কেন এই অবস্থা, তা নিয়েই শুরু হয়েছে চাপানউতোর। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, অভিভাবকরা বেসরকারি স্কুলে সন্তানদের পড়াতে চাইছেন। অন্যদিকে, অভিভাবকদের বক্তব্য, সরকারি স্কুলে শিক্ষকরা সময়ে আসেন না। কয়েক ঘণ্টা নাম কা ওয়াস্তে স্কুল খোলা থাকে। পড়াশোনা বলতে কিছুই হয় না।


    এই পরিস্থিতিতে যেসব স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে কিংবা একেবারেই শূন্য হয়ে গিয়েছে, সেখানে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়। এছাড়া, শিক্ষকদের একাংশ দিব্যি ‘ফাঁকিবাজি’ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। এমনকী ছুটির সময়ের আগেই তাঁরা স্কুলে তালা ঝুলিয়ে চলে যাচ্ছেন বাড়িতে। আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে এমন তিনটি স্কুলে শিক্ষকদের এই ‘ফাঁকিবাজি’ হাতেনাতে ধরেছেন ডিআই। এর মধ্যে একটি স্কুল রাজগঞ্জ সার্কেলে, বাকি দু’টি জলপাইগুড়ি সদর দক্ষিণ সার্কেলে। এনিয়ে সংশ্লিষ্ট স্কুলে যতজন শিক্ষক রয়েছেন, তাঁদের সকলকেই শোকজ করা হয়েছে। সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক উত্তর দিতে না পারলে ওই শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়। তিনি বলেন, ‘সাড়ে ৩টেয় পড়ুয়াদের ছুটি হওয়ার কথা। শিক্ষকরা ৪টে পর্যন্ত থাকবেন। কিন্তু, দুপুর ৩টের আগে স্কুলে গিয়ে দেখা গিয়েছে, তালা ঝুলছে। সম্প্রতি তিনটি স্কুলে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে এই ছবি ধরা পড়েছে। আমরা সংশ্লিষ্ট ওই তিন স্কুলের সব শিক্ষককে শোকজ করেছি।’ 


    পড়ুয়াশূন্য স্কুল নিয়ে বিদ্যালয় পরিদর্শকের বক্তব্য, ‘রাজ্য থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, জলপাইগুড়ি জেলায় ২০টি প্রাইমারি স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা শূন্য হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, আমাদের হিসেবে, পড়ুয়াশূন্য স্কুলের সংখ্যা ছ’টি।’ অন্যদিকে, দুই-চারজন পড়ুয়ার জন্য তিন-চারজন শিক্ষক রয়েছেন, এমন স্কুলের কথাও স্বীকার করে নিয়েছেন ডিআই। তিনি বলেন, ‘পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গিয়েছে, আট-দশজন পড়ুয়া রয়েছে, অথচ তিন-চারজন শিক্ষক সেই স্কুলে। যেসব স্কুলে পড়ুয়ার তুলনায় শিক্ষক বেশি আছে, সেই তালিকা তৈরি করছি আমরা। যেসব স্কুলে শিক্ষকের প্রয়োজন সেখানে পাঠানো হবে তাঁদের।’ 


    ডিআই অফিস সূত্রে খবর, সম্প্রতি জলপাইগুড়ি শহরে যোগমায়া আর আর প্রাইমারি স্কুলে পরিদর্শনে যান জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক। সেসময় ওই স্কুলে আটজন পড়ুয়ার মধ্যে মাত্র একজন ছিল। অথচ সেখানে শিক্ষক তিনজন। শহরের অগ্রণী বিদ্যাপীঠে বিদ্যালয় পরিদর্শকের ভিজিটের সময় ১৮ জন পড়ুয়ার মধ্যে হাজির ছিল আটজন। এখানে শিক্ষক দু’জন। সৌদামিনী প্রাইমারি স্কুলে যখন ডিআই পরিদর্শনে যান, তখন ১৪ জন পড়ুয়ার মধ্যে উপস্থিত ছিল মাত্র পাঁচজন। এখানেও শিক্ষক দু’জন। এরপরই জেলার প্রাইমারি স্কুলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। 
  • Link to this news (বর্তমান)