ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গে নিম্নচাপ, সব জেলায় ভালো বৃষ্টি, কমছে ঘাটতি
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘূর্ণাবর্তর সঙ্গে নিম্নচাপ অক্ষরেখা ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বৃহস্পতিবার বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে। তবে উপকূলবর্তী ও কাছাকাছি জেলাগুলিতে তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে বিকেল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সবথেকে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিংয়ে (৮২ মিমি)। কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ৩০ মিমি।
আবহাওয়াবিদরা আশা করছেন, কলকাতা ছাড়াও দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি অনেকটাই কমবে। তবে মুর্শিদাবাদ, নদীয়া, বীরভূম , বর্ধমান প্রভৃতি যেসব জেলায় ঘাটতি সবথেকে বেশি রয়েছে, সেখানে এদিন বৃষ্টির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। ঘূর্ণাবর্তর প্রভাবে আজ শুক্রবার পশ্চিম বর্ধমান, পুরুলিয়া, বীরভূম জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গের অন্যকোনও জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই। তবে আজও দক্ষিণবঙ্গের সর্বত্র হাল্কা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি চলবে।
শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের কোথাও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা থাকছে না। আপাতত আগামী কয়েকদিন নিয়মিত বৃষ্টিতে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি কিছুটা কমবে বলেই আশাবাদী আবহাওয়াবিদরা। জুলাই মাসে সার্বিকভাবে দক্ষিণবঙ্গে দীর্ঘকালীন গড়ের থেকে ২০ শতাংশের মতো কম বৃষ্টি হয়েছে। জুন মাস থেকে ধরলে ঘাটতি অবশ্য অনেকটাই বেশি।
কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর এদিন তাদের দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে জানিয়েছে, বর্ষার শেষ দু’মাসে (আগস্ট ও সেপ্টেম্বর) দেশে সার্বিকভাবে স্বাভাবিকের থেকে বেশি বৃষ্টি (দীর্ঘকালীন গড়ের ১০৬ শতাংশ) হবে। বর্ষাকালের দ্বিতীয়ার্ধে, আগস্টের শেষ দিকে প্রশান্ত মহাসাগরে লা নিনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এটা বৃষ্টির পরিমাণ বাড়াতে সহায়ক হবে। তবে উত্তর-পূর্ব ভারত ও সংলগ্ন পূর্ব ভারতের কিছু অংশ, লাদাখ, সৌরাষ্ট্র, কচ্ছ এবং মধ্য ও দক্ষিণ ভারতের কিছু এলাকায় এই সময়ে কিছুটা কম বৃষ্টি হতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, দক্ষিণবঙ্গ ও সংলগ্ন দক্ষিণ বাংলাদেশের উপর এদিন ঘূর্ণাবর্তটি ছিল। ওই ঘূর্ণাবর্ত থেকে একটি নিম্নচাপ অক্ষরেখা বেরিয়ে তা বিস্তৃত ছিল বিহার পর্যন্ত। দক্ষিণবঙ্গের উপর তার সঙ্গে অবস্থান করছিল মৌসুমি অক্ষরেখাও। এই তিন কারণে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টি বেড়েছে। ঘূর্ণাবর্তটি এবার দুর্বল হয়ে ঝাড়খণ্ডের দিকে সরে যাবে।