নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভারতীয় ন্যায় সংহিতা সহ কেন্দ্রের নয়া তিনটি আইনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাস হল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। প্রস্তাবটির উপর আলোচনায় রাজ্যের মন্ত্রী ও শাসক দলের বিধায়করা একযোগে জানালেন, কেন্দ্রের আইন দেশের মানুষের দিকে তাকিয়ে করা হয়নি। পাল্টা বিজেপি পরিষদীয় দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেন্দ্রের আইনের বিরোধিতা করে বিধানসভায় প্রস্তাব আনা অর্থহীন।
বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে আলোচনা হয় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা আইন বিরোধী প্রস্তাব নিয়ে। বিরোধিতা করে বিজেপি। পক্ষে মত দেয় তৃণমূল কংগ্রেস। বিল পেশের আগে কেন্দ্রের তরফে রাজ্যকে পাঠানোর চিঠির তালিকা তুলে ধরে বিজেপি বিধায়করা জানান, এই আইন কার্যকর করার অনেক আগেই পশ্চিমবঙ্গের মতামত চাওয়া হয়েছিল। তবু এই আইন নিয়ে তৃণমূল এখন বাধা দিচ্ছে।
তৃণমূল বিধায়করা পাল্টা তথ্য দেন, বিলের বিরোধিতা করে তিনটি চিঠি দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে বিরোধী দলনেতা দাবি করেন, অনুপ্রবেশ ও ধর্মান্তরণ বিরোধী বিল আনা হোক। পাল্টা তৃণমূল বিধায়ক দেবব্রত মজুমদার, তরুণ মাইতি, দেবাশিস কুমার ও হুমায়ুন কবির তাঁদের বক্তব্যে তুলে ধরেন, ইন্ডিয়ান পেনাল কোড ছিলই। ফলে কেন্দ্রের তরফে এই আইন আনার কোনও প্রয়োজন ছিল না। তৃণমূল বিধায়ক নাসিরুদ্দিন আহমেদ প্রস্তাব দেন, কেন্দ্রের নয়া আইনটি এতটাই স্পর্শকাতর যে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা উচিত। আর এই বিষয়ে গণআন্দোলন ও জনগর্জন হোক।
আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক তথ্য সহকারে বিরোধীদের সমস্ত প্রশ্নের জবাব দেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র নয়া আইন কার্যকর করার আগে বিষয়টি ল’ কমিশনের কাছে পাঠায়নি। বিলের বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়নি বার কাউন্সিল থেকেও। তাছাড়া সংসদে এই বিল পাস করানো হয়েছিল ১৪৭ জন সাংসদকে সাসপেন্ড করে। এই আইন মানুষের স্বার্থের পরিপন্থী।