জন্মদিনে হঠাৎ উপস্থিত বিধানসভায়, মিষ্টিমুখ সেরে দিলীপের দাবি, বাংলাভাগের পক্ষে নন তিনি
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নিজের জন্মদিনে হঠাৎই বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধানসভায় হাজির হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁকে স্বাগত জানিয়ে পরিষদীয় দলের ঘরে নিয়ে যান দলীয় বিধায়করা। তাঁকে গেরুয়া উত্তরীয় পরিয়ে, ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। জন্মদিনে দিলীপের মুখে গুঁজে দেওয়া হয় কালাকাঁদ। দিলীপবাবুও মিষ্টিমুখ করান বিজেপি বিধায়কদের। তারপর নানা বিষয়ে বিধায়কদের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়। বিজেপির তরফে এই ঘটনাকে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলা হয়েছে। যদিও রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে, হঠাৎ কেন বিধানসভায় এলেন দিলীপবাবু? আর বিরোধী দলনেতার সঙ্গে কী আলোচনা হল? দিলীপবাবু বলেছেন, ‘মত বিনিময় হয়েছে। সৌজন্য সাক্ষাৎ। খুব ভালো সময় কেটেছে।’
তবে বিধানসভার লবিতে তৃণমূল বিধায়কদের সঙ্গেও দেখা হয়েছে দিলীপবাবুর। আবার সল্টলেকে প্রয়োজনীয় কাজে গিয়ে দিলীপের সঙ্গে দেখা হয় তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষের। তিনি দিলীপবাবুকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান। ফলে বিজেপি ও তৃণমূল দু’পক্ষের নেতাদের সঙ্গে জন্মদিনে দিলীপের সাক্ষাৎ অনন্য ঘটনা হয়ে রয়েছে। আর বিধানসভার গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী বার্তা উঠে এসেছে দিলীপবাবুর বক্তব্যে। তিনি বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নাকি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রস্তাব পাস করাবে রাজ্য সরকার। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গকে ভাগ করার কোনও প্রস্তাব কোথাও কখনও আনেনি, আগামী দিনেও তা আনবে না। আমাদের পার্টির জন্মদাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গেরও জন্মদাতা। তাই পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আমাদের যে মমত্ব আছে, তা আরও কোনও রাজনৈতিক দলের নেই।
কয়েকদিন ধরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থেকে বিজেপি বিধায়করা বাংলা ভাগের ধুয়ো তুলছেন। বিজেপির কেউ বলছেন, উত্তরবঙ্গের আট জেলাকে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হোক। বিজেপিরই অন্য এক নেতা বলছেন, মালদহ-মুর্শিদাবাদকে ‘কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ করা হোক। এই অবস্থায় দিলীপ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তাঁরা বাংলাভাগের পক্ষে নন।