দাম বৃদ্ধির কারণে দেশজুড়ে সোনার বাজারে কিছুটা ধাক্কা
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সোনার চাহিদা কিছুটা ধাক্কা খেল দেশজুড়ে। ভারতীয় বাজারে সোনার বিক্রিবাটা নিয়ে এমনই রিপোর্ট দিয়েছে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল। তারা জানাচ্ছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে জুন মাসের নিরিখে চলতি বছরের ওই একই সময়ে সোনার বিক্রির পরিমাণ ৫ শতাংশ কমেছে। তবে চলতি বছরের প্রথম তিনমাস, অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সামান্য বেড়েছিল সোনার বিক্রিবাটা। ওজনের নিরিখে বিক্রি বেড়েছিল ৮ শতাংশ। টাকার হিসেবে ব্যবসা বেড়েছিল ২০ শতাংশ। ফলে এই বছরের প্রথম ছ’মাসের হিসেব কষলে ওজনের নিরিখে ১.৫ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে সোনার।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের রিপোর্ট বলছে, গতবছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত দেশে সোনার মোট চাহিদা ছিল ১৫৮.১ টন। অথচ এবার ওই একই সময়ে তা দাঁড়িয়েছে ১৪৯.৭ টন। এদেশে সোনা বিক্রির বেশিরভাগটাই দখলে রাখে গয়না। গতবছর ওই তিনমাসে এদেশে গয়না বিক্রি হয় প্রায় ১২৮.৬ টন। চলতি বছরে তা ছিল ১০৬.৫ টন। পরিমাণের নিরিখে বিক্রি কমলেও টাকার দামের তুলনায় বিক্রির হার এদেশে কিছুটা ভালো, বলছে কাউন্সিল। এর অন্যতম কারণ সোনার দামের বৃদ্ধি। গতবছর এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত এদেশে ৮২ হাজার ৫৩০ কোটি টাকার সোনা বিক্রি হয়েছিল। এবছর ওই একই সময়ে ৯৩ হাজার ৮৫০ কোটি টাকার সোনা বিক্রি হয় দেশে। বিক্রয়ে আর্থিক বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ।
যেকোনও বছরের প্রথম তিনমাসে সোনার চাহিদা তুলনামূলক কম থাকে, এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এর অন্যতম কারণ উৎসবে কিছুটা ভাটা। কিন্তু দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকেও কেন চাহিদায় এতটা পতন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একদিকে সোনার চড়া দাম তার চাহিদাকে টেনে নামিয়েছে, অন্যদিকে, শেয়ার ও অন্যান্য লগ্নির বাজার কিছুটা চাঙ্গা থাকায় সোনায় কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সোনায় আমদানি শুল্ক কমানো হয়েছে এবারের বাজেটে। তার সদর্থক প্রভাব চলতি ত্রৈমাসিকে সোনার বাজারে পড়বে বলে আশাবাদী স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।