• বিমানবন্দরের ধাঁচে আধুনিক টার্মিনাল গঙ্গার জেটিঘাটেও
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: বিমানবন্দরের টার্মিনালের সুবিধা ও স্বাচ্ছন্দ্য এবার মিলবে গঙ্গার জেটিঘাটে। সৌজন্যে রাজ্যের জলপথ পরিবহণ দপ্তর! নদীপথে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ ও সুগম করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তারই অংশ হিসেবে কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনায় গঙ্গার পাঁচটি ঘাটে আধুনিক যাত্রী টার্মিনাল তৈরির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘাটগুলি হল কলকাতার মিলেনিয়াম পার্ক, হাওড়া, নাজিরগঞ্জ (হাওড়া), পানিহাটি (উত্তর ২৪ পরগনা) ও চুঁচুড়া (হুগলি)। প্রস্তাবিত টার্মিনালে যাত্রীদের প্রতীক্ষা ও বিশ্রামের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে টিকিট কাউন্টার, টয়লেট সহ যাবতীয় সুবিধা থাকবে। মিলবে একাধিক স্টলে কেনাকাটার সুযোগ, পর্যাপ্ত পানীয় জল। পাঁচটি ঘাটে টার্মিনাল তৈরির জন্য ২০০ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। এখন ঘাটগুলিতে সরেজমিনে পরিদর্শন চলছে। টার্মিনাল তৈরির জায়গা নির্দিষ্ট করে প্রকল্পের ডিপিআর বা ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট চূড়ান্ত হবে শীঘ্রই। 


    দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, টার্মিনাল তৈরির জন্য এই পাঁচটি ঘাটকে বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ, এসব জায়গায় লঞ্চ ধরতে কাজের দিনগুলিতে রীতিমতো ভিড় জমে যায়। একটি লঞ্চ ছেড়ে যাওয়ার পরও বহু যাত্রীকে ঘাটেই অপেক্ষা করতে হয় পরের লঞ্চের জন্য। সেই জায়গায় বসা বা সময় কাটানোর কোনও ব্যবস্থা না থাকলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। চড়া রোদ বা বৃষ্টির সময়ের ভোগান্তি তো আছেই। তাই টার্মিনাল তৈরির ক্ষেত্রে এই ঘাটগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে দাবি এক পদস্থ আধিকারিকের। এর পাশাপাশি গঙ্গার দু’পাড়ে ৪৪টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। প্রতিটি ঘাটের জন্য ১৫-১৬ কোটি টাকা খরচ হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বিশ্বব্যাঙ্কের অর্থ সাহায্যেই দু’টি প্রকল্প রূপায়িত হবে। ইতিমধ্যে গঙ্গার দু’পাড়ে হাওড়া হুগলি এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন ঘাটে নতুন ভাসমান জেটি তৈরি করা হয়েছে। পানিহাটি, বারাকপুরের ধোবি ঘাট, মনিরামপুর, নবাবগঞ্জ, নৈহাটি প্রভৃতি ঘাটে ভিড় বাড়ছে দিনে দিনে। ঘাটের সৌন্দর্যায়ন ও সব জায়গায় জলযান আরও নিয়মিত হলে বহু মানুষ বিকল্প হিসেবে তা বেছে নেবেন বলে আশাবাদী দপ্তর। 


    সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ঘাট পরিদর্শন করছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। যাত্রীদের ভিড় সহ অন্যান্য গুরুত্ব বিচার করে পাঁচটি ঘাটকে বেছে নেওয়া হয়েছে টার্মিনাল তৈরির জন্য। আর ৪৪টি ঘাটের সৌন্দর্যায়নের অংশ হিসেবে পাড়ে বসার জায়গা, গঙ্গাস্নানের সুব্যবস্থা, বাচ্চাদের জন্য ছোট পার্ক তৈরি হবে। গঙ্গায় বানের শক্তি বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ঘাটে ভাঙন ঘটছে। সেই  কথা মাথায় রেখে জলপথ পরিবহণ দপ্তর আগে থেকেই ব্যবস্থা নিতে তৎপর বলে দাবি সরকারি কর্তাদের। 
  • Link to this news (বর্তমান)