• ‘মোদি তো পারেননি, বৃষ্টিতে যদি দাম কমে আনাজের,’ আশায় আম জনতা
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেলা আড়াইটে। একনাগাড়ে বৃষ্টি পড়েই চলেছে। শিয়ালদহ থেকে মাঠপুকুরগামী অটোতে ঠাসাঠাসি করে বসে বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন যাত্রীরা। অটোচালক হঠাৎ বললেন, ‘মোদি তো পারেননি। এবার যদি বৃষ্টির ফলে শাকসব্জির দাম একটু কমে।’ তাঁর কথায় সমস্বরে সায় দিলেন সবাই। টানা বর্ষণে আনাজের দাম কমার আশা দেখা দেওয়ায় একদিকে খুশি মানুষ। অন্যদিকে সকাল থেকেই টানা বৃষ্টি হতে থাকায় বিরক্তিও কম নয়। বৃহস্পতিবার কলকাতা সহ শহরতলি ও আশপাশের জেলাগুলিতে লাগাতার বৃষ্টি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিপর্যস্ত জনজীবন। 


    কলকাতায় সেভাবে জমা জলের দেখা না মিললেও দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা, হাওড়া, বারাসত, বনগাঁ, বসিরহাট, চুচুঁড়ার বিভিন্ন জায়গায় জল জমে থাকায় ভোগান্তি বেড়েছে নাগরিকদের। এমনকি মথুরাপুর স্টেশনে রেল লাইনে জল জমে যাওয়ায় পাম্প করে জল নামাতে হয়েছে রেলকে। অন্যদিকে হুগলির পাণ্ডুয়ার বোসপাড়া হঠাৎ কলোনিতে ডিভিসি খালের উপরে থাকা একটি প্রাচীর ভেঙে পড়ে। সেখানে তখন মাছ ধরছিল দু’টি ছেলে। পাঁচিল ভেঙে পড়ায় তারা জখম হয়। তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গিয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়েও দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সপ্তগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বোরোপাড়ার একাধিক বাড়ির ভিতর জল ঢুকে যায় বলে অভিযোগ। অন্যদিকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে রাস্তায় বেরিয়ে আমজনতাকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বলে দিনভর অভিযোগ উঠেছে।


    কলকাতায় এদিন সকাল থেকেই মেঘলা আকাশ। তবে সর্বত্র প্রবল বৃষ্টি হয়নি। কখনও ঝিরঝির করে কখনও ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি। তবে লাগাতার ভারী বর্ষণ না হওয়ায় সেভাবে জমা জলের দেখা মেলেনি। অন্যদিকে বেহাল জল নিকাশির কারণে বারুইপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। মানুষের বাড়িতে, ঘরে জল জমে। বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে পর্যন্ত জল জমে যায়। চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন রোগী ও তাঁর পরিজনরা। নিকাশির জল আর বৃষ্টির জল মিলেমিশে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করে। নিকাশি নালা নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ার জেরেই এই পরিস্থিতি, অভিযোগ স্থানীয়দের। পাশাপাশি জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডও জলমগ্ন। স্কুলবাড়িতেও জল ঢোকে। সমস্যায় পড়েন শিক্ষিকা, পড়ুয়ারা। প্রবল বৃষ্টিতে একটি প্রাচীন দেবদারু গাছ ভেঙে পড়ে জয়নগর থেকে জামতলা যাওয়ার রাস্তায়। ফলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে জল জমে যাওয়ায় নাকাল হতে হয় বাসিন্দাদের। অন্য দিকে মহেশতলার বিভিন্ন এলাকাতেও জমা জল ভোগান্তি বাড়িয়েছে আমজনতার। ঠাকুরপুকুর-মহেশতলা ব্লকের রসপুঞ্জ, আশুতির নিচু এলাকায় জল জমে ছিল দীর্ঘক্ষণ। ভোর থেকেই বারাসত, বসিরহাট ও বনগাঁয় প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে অলিগলি সহ বড় রাস্তাতেও জল জমে। তবে প্রশাসনের বক্তব্য, বৃষ্টির কারণে নগরজীবন ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত হয়নি।


    বুধবারও বর্ষণমুখর ছিল দিন। তারপর বৃহস্পতিবারও টানা বৃষ্টি চলে বনগাঁয়। ফলে বনগাঁ শহরের বেশ কিছু এলাকার রাস্তা জলমগ্ন হয়। এদিন বাগদা, গাইঘাটায় টানা বৃষ্টি হয়। এর পাশাপাশি বারাকপুর শিল্পাঞ্চলেরও বেশ কিছু জায়গা বৃষ্টিতে জলমগ্ন ছিল। কল্যাণী হাইওয়ের অবস্থান উঁচুতে থাকায় আশপাশের অপেক্ষাকৃত নিচু অঞ্চলগুলিতে জল জমে যায়। ভাটপাড়া পুরসভার মাদরা এলাকার দু’টি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়। কয়েকটি বাড়ির ভিতরে জল ঢুকে যায়। বারাকপুরের নোনাচন্দন পুকুর রবীন্দ্রপল্লি এলাকাতে মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ায় জল জমে যায়। অন্যদিকে, বিটি রোডের সম্প্রসারণের কাজ চলায় কয়েক জায়গায় গর্ত তৈরি হয়েছে। সেগুলি জমা জলে টইটুম্বুর। বরানগর, পানিহাটি, কামারহাটি ও দক্ষিণ দমদমের বিভিন্ন নিচু জায়গায় জল জমে যায়। অনেক জায়গায় রাত পর্যন্ত হাঁটু সমান জল জমে ছিল। পানিহাটির এইচবি টাউনেও জল যন্ত্রণা চরমে ওঠে বলে অভিযোগ।
  • Link to this news (বর্তমান)