চালু নয়া নিয়ম, সম্পত্তি করে বিপুল ছাড় তুলে দিল পুরসভা
বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বৃহস্পতিবার, ১ আগস্ট থেকে চালু হয়ে গেল সম্পত্তি করে ওয়েভার বা ছাড়ের নয়া নীতি। এতদিন বকেয়া সম্পত্তি করের উপর বছরভর যে বিপুল ছাড় দিত কলকাতা পুরসভা, তা বন্ধ হয়ে গেল। পুরনো ওয়েভার অনুযায়ী সুদের উপর ৫০ শতাংশ এবং পেনাল্টি বা জরিমানায় ৯৯ শতাংশ ছাড় ছিল। সারা বছর ধরেই এই সুবিধা পান নাগরিকরা। কিন্তু, এবার থেকে আর সেই বিপুল ছাড় মিলবে না। ঠিক হয়েছে, এবার থেকে যাঁর বকেয়া যতদিন বেশি পড়ে থাকবে, তিনি তত কম ছাড় পাবেন। ১ এপ্রিল থেকেই নয়া ব্যবস্থা চালু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনী আচরণ বিধির জেরে তা করা যায়নি। তাই, ৩১ জুলাই পর্যন্ত ছাড়ের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল।
উল্লেখ্য, পুর আইন অনুসারে ২০১৮ সাল থেকে এই ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এরপরও মেয়র চাইলে বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে আরও ছাড় দিতে পারেন। গত বছর থেকেই এই পুরনো ওয়েভার ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে চালু করার দিন একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে। সম্প্রতি মেয়র পরিষদের বৈঠকে তা পাশ করানো হয়। সেই অনুযায়ী, ১ আগস্ট থেকেই নয়া এই বিধি চালু হয়েছে। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগ সূত্রে খবর, গত ছ’-সাত বছরে পুরনো পদ্ধতিতে কোষাগারে টাকা ঢুকলেও বকেয়ার বড় অংশ এখনও ঝুলে রয়েছে। আশা করা হয়েছিল, এই ছাড় পেলে নাগরিকরা তাঁদের সব বকেয়া মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু নাগরিকদের একটা বড় অংশ এখনও বকেয়া মেটাচ্ছেন না, তাই এই ছাড় তুলে দেওয়া হল। বর্তমানে বকেয়া যত দীর্ঘদিনের, সুদ এবং পেনাল্টিতে ছাড় মিলছে তত কম। বিভাগীয় এক কর্তা বলেন, নির্বাচনের কারণে এপ্রিল থেকে ওই নয়া ওয়েভার চালু করা যায়নি। অনেকেই আবেদন জানিয়েছেন। তাই সময় আরও চার মাস বাড়ানো হয়। তবে, নিয়ম অনুযায়ী ওয়েভারের আবেদন জানালে আগে ছাড় দেওয়ার পর যে টাকা কর বাবদ দিতে হবে, সেটা জমা করতে হবে। তারপর ছাড়ের জন্য আবেদন জানাতে হবে। ছাড়ের বিষয়টি পুরোপুরি বিবেচনাধীন।
কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা, বছরের পর বছর ধরে এমন বিপুল ছাড় চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই, যাঁরা সম্পত্তি করের টাকা দিতে এতদিন গড়িমসি করেছেন, তাঁদের ‘উচিত শিক্ষা’ দিতেই এই নয়া নীতি চালু করা হয়েছে। যদিও, অফিসারদের একাংশের বক্তব্য, পুরনো ছাড় দিয়ে যে বকেয়া পড়ে থাকা প্রচুর টাকা কোষাগারে ঢুকেছে, এমনটা নয়। ফলে নতুন ছাড় চালুর পরেও পরিস্থিতি খুব একটা বদল হবে না। এখনও কয়েক হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে রয়েছে। যা আদৌ কোষাগারে ঢুকবে কি না, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই।