• ‘সিবিআই থেকে বলছি’ প্রতারণার ফাঁদে তটস্থ ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীরা
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘সিবিআই থেকে বলছি। আপনার অ্যাকাউন্টে বেআইনি লেনদেন হয়েছে। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শাস্তি পেতে না চাইলে দিতে হবে টাকা।’ এমনই ফোন কলে এখন তটস্থ নরেন্দ্রপুরবাসী। কারণ প্রতারকরা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নাম করে জালিয়াতির নয়া ফন্দি এঁটেছে। একাধিক মানুষের কাছে এমন ফোন এসেছে বলে খবর। বেশিরভাগই তাতে গুরুত্ব দেননি। কিন্তু কয়েকজন সেই ফাঁদে পা দিয়ে খুইয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। গত দেড়-দু’মাসে এমন দু’তিনজন প্রতারিত ব্যক্তি অভিযোগ জানিয়েছেন নরেন্দ্রপুর থানায়। 


    কীভাবে প্রতারণা করা হয়েছে? জানা গিয়েছে,  সিবিআই অফিসার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়ে এই ব্যক্তিদের ফোন করা হয়েছিল। বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে বেশ কিছু বেআইনি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। একাধিক অ্যাকাউন্টে টাকা ট্রান্সফার হয়েছে। যাকে ফোন করা হয়েছে, তিনি বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও প্রতারকরা তথ্য প্রমাণ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে দিচ্ছে। যদিও সবটাই জাল। এরপর স্কাইপের মাধ্যমে ভিডিও কল করে কথা বলছে তারা। পুরো বিষয়টি বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা হচ্ছে। আর তাতেই ভেঙে পড়ছেন কেউ কেউ।  প্রতারকরা পরামর্শ দিচ্ছে, কীভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে দিতে হবে টাকা। তার জন্য একটি লিঙ্ক পাঠিয়ে কাউকে ৩০ হাজার, কাউকে ৪০ হাজার টাকা পাঠাতে বলা হয়। অভিযোগকারীরা তা দিয়েও দিয়েছেন। কিছুদিন যেতে না যেতে ফের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ফোন করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও বড় পদক্ষেপ করা হবে বলে ভয় দেখানো হয়। সেটা এড়াতে মোটা অঙ্কের জরিমানা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। আগে যে টাকা তাঁরা দিয়েছিলেন, এবার তার তিন থেকে চার গুণ বেশি টাকা দিয়ে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দেয় প্রতারকেরা। তাতেও রাজি হয়ে যান অনেকেই।  পুলিস তদন্তে জানতে পেরেছে, কম করে ৫০-৬০ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে অভিযোগকারীদের। প্রতারকরা সরকারি চাকরিজীবী এবং ব্যবসায়ীদেরই টার্গেট হিসেবে বেছে নিয়েছে। তদন্তকারীদের প্রতারিতরা জানিয়েছেন, ভিডিও কলে তাঁরা দেখেছেন যে ঘর থেকে কথা বলা হচ্ছিল, সেটি সিবিআইয়ের অফিসের মতো সাজানো। যে সব নথিপত্র পাঠানো হয়েছিল, তাতে সিবিআইয়ের সিল, অফিসারের সই ছিল। পুলিস পরে সেগুলি যাচাই করতে গিয়ে দেখেন, সবটাই নকল। এই টাকা নেওয়ার জন্য একাধিক অ্যাকাউন্ট ভাড়া করা হয়েছিল বলে খবর। পুরোটাই যে বাইরের রাজ্য থেকে অপারেট করা হয়েছে, সেটাও নিশ্চিত তাঁরা। তাই প্রতারকদের ধরার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। 
  • Link to this news (বর্তমান)