• বিধাননগরে বেআইনি হোর্ডিং: শুনানিতে উঠল মুম্বইয়ের বিলবোর্ড দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ
    বর্তমান | ০২ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বেআইনি হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে বিধাননগর। কোনও নিয়মের তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র বসানো হচ্ছে হোর্ডিং। এমন অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় উঠে এল মুম্বইয়ের বিলবোর্ড কাণ্ডের প্রসঙ্গ। নিয়ম না মেনে হোর্ডিং বসানো হলে তার পরিণতি ভয়ঙ্কর হতে পারে। সে কথা উল্লেখ করে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা জানতে চেয়েছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। এ বিষয়ে রাজ্য সরকার ও বিধাননগর পুরসভাকে দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে। 


    বিধাননগর পুর এলাকায় বেআইনি হোর্ডিং নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন আইনজীবী দিবায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন মামলার শুনানিতে তিনি অভিযোগ করেন, বিধাননগরে বেআইনিভাবে যত্রতত্র হোর্ডিং লাগানো হচ্ছে। এ নিয়ে পুরসভার যে নির্দেশিকা রয়েছে, তা মানা হচ্ছে না। অথচ বিভিন্ন হোর্ডিং থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আসার কথা। হোর্ডিং বাবদ কয়েক হাজার কোটি টাকা আয় হতে পারে। কিন্তু তা সত্ত্বেও বেআইনি হোর্ডিংয়ের বিষয়টি আদৌ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না পুর কর্তৃপক্ষ। এ সংক্রান্ত নিয়ম উপেক্ষা করেই বেশির ভাগ হোর্ডিং অনুমতি ছাড়াই লাগানো হচ্ছে। মামলাকারীর আরও দাবি, কয়েকশো বেআইনি হোর্ডিংয়ে ছেয়ে গিয়েছে গোটা বিধাননগর। এর ফলে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়ছে। এমনকি এই সংক্রান্ত বিষয়ে পুরসভার একটি বৈঠকে ১৩০টি বেআইনি হোর্ডিংয়ের কথা স্বীকারও করা হয়েছে। তাও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অভিযোগ শুনে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘হোর্ডিংয়ের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। হোর্ডিং নিয়ে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা থাকা উচিত। না হলে তা থেকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থেকে যায়।’ এরপরই মুম্বইয়ে হোর্ডিং দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন তিনি। গত মে মাসে মুম্বইয়ের ঘাটকোপর এলাকায় একটি ধাতব বিজ্ঞাপনের বোর্ড উপড়ে পড়ে চাপা পড়ে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। আহত হয়েছিলেন প্রায় ৮০। সেই ঘটনার উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘বেআইনিভাবে হোর্ডিং লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই সংক্রান্ত বিষয়ে মহারাষ্ট্রের ঘটনার কথা মনে পড়ছে। পুরসভার বিষয়টি দেখা উচিত।’ তবে বিধাননগর পুরসভা জানিয়েছে, হোর্ডিং নিয়ে তাদের নির্দিষ্ট আইন এবং নির্দেশিকা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে পুরসভা পদক্ষেপও করে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনাও হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে রিপোর্ট দেবে পুরসভা। ১৫ আগস্টের পর ফের মামলার শুনানি। 
  • Link to this news (বর্তমান)