বৃষ্টিতে ভাগীরথীর জল বৃদ্ধির জেরে নাদনঘাটে আবার ভাঙন, আতঙ্ক
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, কালনা: টানা বৃষ্টিতে ভাগীরথী নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় নাদনঘাট থানার ডাঙাপাড়া এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় জালুইডাঙা, কালনা ধাত্রীগ্রামের পিয়ারিনগর, কালনা শহরের জাপট মহল্লার নদীপাড়ের বাসিন্দারা আতঙ্কে রয়েছেন। এছাড়া, ভাগীরথী নদী দিয়ে কচুরিপানা ভেসে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে সমস্যা দেখা দিয়েছে।
কালনা ও নাদনঘাট থানার একদিক দিয়ে ভাগীরথী নদী বয়ে গিয়েছে। নদী-তীরবর্তী বিভিন্ন গ্রামের মানুষের কাছে ভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। অতীতে নদী ভাঙনে বহু গ্রামের চাষের জমি, বসতভিটে নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার নদীভাঙন রুখতে তেমন কোনও উদ্যোগ নেয়নি। এরাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পর অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে উদ্যোগ নেওয়া হয়।
সমুদ্রগড়, জালুইডাঙা এলাকায় ভাঙন কালনা-কাটোয়া রেললাইন থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে। ফের নদীভাঙন শুরু হলে রেললাইন সহ কৃষিজমি ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। এদিনের বৃষ্টির পর ডাঙাপাড়া এলাকায় ফের ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দারা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কালনা শহরের জাপট মহল্লায় কিছুদিন আগে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছিল। ফের ভাঙনের আশঙ্কায় বাসিন্দাদের ঘুম উড়েছে।
ডাঙাপাড়ার বাসিন্দা এফাইতুল্লা শেখ বলেন, বৃষ্টিতে নদীর জল বাড়ছে। নসরৎপুর জেটিঘাট থেকে কিছুটা দূরত্বে প্রায় ৩০ ফুট এলাকাজুড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা না নিলে সমস্যা জটিল হতে পারে। চাষের জমি সহ কবরস্থান নদীগর্ভে চলে যাবে।
জাপটপাড়ার নদীপাড়ের বাসিন্দা বাপ্পা পাল বলেন, জল বেড়ে যাওয়ায় এমনিতে আতঙ্কে রয়েছি। কিছুদিন আগে ভাঙন দেখা দেয়। ফের ভাঙনের আশঙ্কায় দিন কাটছে।
নসরৎপুর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মোবিন হোসেন মণ্ডল বলেন, ডাঙাপাড়ায় ভাঙনের খবর পেয়েছি। বড় সমস্যা। বিষয়টি সেচদপ্তরের নজরে আনা হচ্ছে।
সম্প্রতি ভাগীরথী নদীর ভাঙনকে জাতীয় বিপর্যয় হিসেবে লোকসভায় তুলে ধরেন তৃণমূল সাংসদ শর্মিলা সরকার। বাসিন্দারা মনে করেন, সাংসদের হাত ধরেই বিস্তীর্ণ নদীপাড়ের বাসিন্দারা ভাঙনের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবেন।-নিজস্ব চিত্র