সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফেসবুকে ফের বিস্ফোরক বিজেপির প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি তথা নলহাটি বিধানসভার তিনবারের প্রার্থী অনিল সিং। এবার দলের রাজ্যস্তরের এক নেতাকে আপত্তিকর ভাষায় আক্রমণ করলেন বিক্ষুব্ধ ওই বিজেপি নেতা। ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, এরকম নোংরামি চললে আগামী দিনে ভয়ঙ্কর পরিণাম হবে। দেখা হলেই ওই নেতাকে কলার ধরে ড্রেনে ফেলে দেবেন। যা নিয়ে সরগরম বীরভূমের রাজনীতি। ইতিমধ্যে তাঁর এই পোস্ট ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। অনিলবাবুর দাবি, তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে বিজেপি বাঁচাও মঞ্চ।
বিভিন্ন সময় জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্যও করেছেন অনিল সিং। তার জেরে ২০২২ সালের মে মাসে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তারপরও বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে নিজের মতো সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও বহিষ্কার প্রত্যাহারের শর্তে সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে তাঁকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামানো হয়েছিল। যদিও তা প্রত্যাহার হয়নি। তিনি ঘোষণা করেছেন, বিজেপির পতাকা ও পদকে সামনে রেখে জেলা থেকে রাজ্যস্তরের একাধিক নেতার তোলাবাজি এবং অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে।
বৃহস্পতিবার রাতে তিনি ফেসবুক লাইভে বলেছেন, ‘দুর্নীতির দায়ে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলে থাকতে হচ্ছে। অথচ বিজেপির লোক চুরি করলে তাদের শাস্তি হবে না কেন? এই স্বজনপোষণ নীতির জন্যই এরাজ্যে বিজেপির এই অবস্থা। তৃণমূলের কাছে বিক্রি হয়ে বিজেপির অসংখ্য কর্মীর স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে ওইসব নেতা। অথচ এনিয়ে সামাজিক মাধ্যমে কিছু বললে বা লিখলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে এতে ভয় পাওয়ার লোক আমি নই। এরপরই তিনি রাজ্যের এক নেতাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছেন, সাবধান করে দিচ্ছি। তোমাকে পেয়ে গেলে ভয়ঙ্কর পরিণাম হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনী তোমাকে আগলাচ্ছে বলে যা খুশি তাই করছ। আমি যেদিন রাস্তায় তোমাকে পেয়ে যাব, সেদিন কলার ধরে ড্রেনে ঢুকিয়ে দেব। তৃণমূল, সিপিএম আমার কিছু করতে পারেনি। তুমি তো হরিদাস পাল। তিলপাড়া ব্যারেজে গেটের তোলা নাও। গোটা জেলা থেকে তোলা তুলছো। তৃণমূলের সঙ্গে থেকে বিজেপিকে শেষ করছো। এসব সত্যি কথা বললেই দোষ। লজ্জা লাগে না। তারপরই ওই নেতা সম্পর্কে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন। অনিলবাবু বলেন, আমার এই পোস্ট দেখে বিজেপি বাঁচাও মঞ্চের অনেকে ফোন করেছেন। তাঁরা আমার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। অনেকেই পোস্ট শেয়ারের পাশাপাশি দলের তোলাবাজদের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়ে কমেন্ট করেছেন।
যদিও এই পোস্ট সম্পর্কে দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, অনিল সিংকে বহুদিন আগেই দল বহিষ্কার করেছে। ফলে তাঁর কোনও বক্তব্য বা পোস্টের গুরুত্ব বিজেপি কর্মীদের কাছে নেই।