সংবাদদাতা, মেদিনীপুর: গত সোমবার জলের তোড়ে কজওয়ে বা ভাসাপুলের কিছুটা অংশে ধস নেমেছিল। ভারী যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। শুক্রবার সকালে কাঁসাই নদীতে জল বাড়ায় ডেবরার ট্যাবাগেড়িয়ায় কজওয়ের অনেকটা অংশ ভেসে গেল। এর ফলে ভরতপুর ও ভবানীপুর পঞ্চায়েত এলাকার সঙ্গে ডেবরার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। খবর পেয়ে এদিন সকালে বিডিও প্রিয়ব্রত রাঢ়ি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বাদলচন্দ্র মণ্ডল সহ জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
বিডিও বলেন, নদীতে জল বাড়ায় কজওয়ের কিছু অংশ ভেসে গিয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রেখে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নৌকোও মজুত রাখা হয়েছে। পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি প্রদীপ কর বলেন, আপাতত পাটাতন ফেলে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু দু’ চাকার যানবাহন চলবে ও হেঁটে যাতায়াত করা যাবে। নদীতে জল আরও বাড়লে নৌকো নামানো হবে। নৌকোতেই যাতায়াত করতে হবে বাসিন্দাদের। দু’টি নৌকো প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ট্যাবাগেড়িয়ায় কাঁসাই নদীর ওপর সেতুর দাবি দীর্ঘদিনের। সেতু না থাকায় প্রতি বর্ষায় এই দুই পঞ্চায়েতের সঙ্গে ডেবরার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নদীতে যখন জল থাকে না, সেই সময়ে যাতায়াতের জন্য নদীর ওপর হিউম পাইপ পেতে বোল্ডার ও মোরাম দিয়ে অস্থায়ী রাস্তা বা কজওয়ে করা হয়। কিন্তু প্রতি বছর বর্ষায় সেই রাস্তা ভেসে যায়। তখন ভরসা নৌকোই। এবার লোকসভা ভোটে ট্যাবাগেড়িয়া সেতু নির্বাচনের ইস্যু হয়। তৃণমূলের দীপক অধিকারী তথা দেব ও বিজেপির হিরণ্ময় চট্টোপাধ্যায় দু’জনেই সেতুকে প্রচারে এনেছিলেন। দেব কথা দিয়েছিলেন, ভোটে জিতলে সেতু তৈরির উদ্যোগ নেবেন। কিছুদিন আগে সেতুর জমি অধিগ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে বৈঠকও হয়। সেখানে মকারিমপুর, চকফতেউল্লা ও ট্যাবাগেড়িয়ার বাসিন্দাদের ডাকা হয়েছিল।
জমি দেওয়ার জন্য তাদের আবেদন জানানো হয়। তার জন্য এলাকায় বোর্ডও লাগানো হয়েছে। কিছু বাসিন্দা জমি দিতে সম্মত হয়েছেন। জানা গিয়েছে, বাকিদের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, সেই সব জমি সরকার কিনে নেবে। জমির সংস্থান হলেই পরিকল্পনা শুরু হবে। বিডিও বলেন, সেতু তৈরির বিষয়টা অলোচনার মধ্যে আছে। শুক্রবার ডেবরার ট্যাবাগেড়িয়ায় পরিদর্শনে প্রশাসনিক আধিকারিকরা।-নিজস্ব চিত্র