• অশোকনগর রেনেসাঁস ক্লাবের ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবসে শুরু হল শ্রাবণী মেলা
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
  • সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়, মেদিনীপুর: ১৯৯০ সালে মেদিনীপুর শহরের বিশিষ্টজনদের হাত ধরে পথচলা শুরু করে অশোকনগর রেনেসাঁস ক্লাব। মূলত সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলোয় সুস্থ পরিমণ্ডল গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই ক্লাবের পথচলা শুরু। ১৯৯৩ সালে ক্লাবের উদ্যোগে শুরু হয় দুর্গাপুজো। ১৯৯৬ সালে তা সর্বজনীন রূপ নেয়। এই দুর্গাপুজোকে সামনে রেখে ক্লাবের সারা বছরের কর্মসূচিকে একলপ্তে তুলে ধরতে ২০১৩ সালে শুরু হয় শ্রাবণী মেলা। এবছরও ৩৫তম প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষ্যে ২২ জুলাই থেকে ক্লাব সংলগ্ন মাঠে শুরু হয়েছে এই মেলা, চলবে ১০ আগস্ট পর্যন্ত।


    মেলাকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচি। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায় বলেন, মেলার অঙ্গ হিসেবে থাকে ফল ও ফুলের চারা বিতরণ, বৃক্ষরোপণ। এছাড়া রক্তদান সচেতনতায় বাইক র‌্যালি, স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবির, ডায়াবেটিস ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক অলাোচনা সভা, ক্যুইজ প্রতিযোগিতা, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ শীর্ষক পথ নিরাপত্তা বিষয়ক আলোচনাও হবে। এছাড়া মাদক বর্জন ও আইনি সচেতনতার বিষয়েও নেওয়া হয় কর্মসূচি। এই বর্ষাতেও প্রতিদিন মেলা প্রাঙ্গণে উপচে পড়ছে ভিড়। বিশেষ করে মহিলাদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। ক্লাবের সামনে ছোট একটি মাঠে বসেছে এই মেলা। একসময় এই মাঠ ছিল রাস্তা থেকে তিন চার ফুট গভীর, আবর্জনা ফেলার এক অস্বাস্থ্যকর জায়গা। এখন সেই জায়গা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজকর্মের পীঠস্থান। ক্লাবের সভাপতি প্রণবকুমার দুবে, সহ সভাপতি অশোককুমার চক্রবর্তী, সাধারণ সম্পাদক সুব্রত রায়, সহ সম্পাদক চিত্তরঞ্জন দাস সহ ক্লাবের সকলেই আন্তরিকভাবে চান খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও নাটকের স্বার্থে এই ক্লাবের চরিত্র যেন বদল না হয়। সভাপতি বলেন, তারজন্য সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদনও জানানো হয়েছে। 


    শুধু দুর্গাপুজো, কালীপুজো আর শ্রবণী মেলা নয়, এই ক্লাবের উদ্যোগে সারা বছর ধরে চলে নানা সামাজিক, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড। এছাড়া শিশু ও কিশোর বাহিনীর খেলাধুলো ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও থাকে। এই ক্লাবের শ্রেষ্ঠ উৎসব সারা বাংলা একাঙ্ক নাটক প্রতিযোগিতা। তারজন্যই এই ক্লাবের নাম জেলার বা‌ইরেও ছাড়িয়ে পড়েছে।


    দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই ক্লাব নাট্যপ্রেমীদের বিনা পয়সায় বহু নাটক দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে নাট্যপ্রেমীদের নাটক দেখার ও নাটক করার অভ্যাসে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করে চলেছে। অনেকে বলেন, মেদিনীপুরে নাটকে বিপ্লব এনেছে এই ক্লাব। শুধু কি নাটক, যাত্রা শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে প্রতিবছর একবার এই ক্লাবের উদ্যোগে যাত্রা দেখার ব্যবস্থাও করা হয়।-নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)