মেমারি থেকে এসে বহরমপুরে ঘাঁটি গেড়েছিল ভণ্ড সাধু ত্রিনাথ
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: পূর্ব বর্ধমানের মেমারি থেকে কয়েক বছর আগে বহরমপুর চলে এসেছিল ভণ্ড সাধু ত্রিনাথ সেন। এক হোটেলের কর্মচারী থেকে ত্রিনাথ হয়ে ওঠে ডিজিটাল ক্রিয়েটর। গলার কণ্ঠস্বর এবং তার ভাব ভঙ্গিমার জন্য তাকে সকলেই বৃহন্নলা বলে ডাকত। সেজন্য নিজের গ্রামে সে থাকতে পারেনি। এরপর পরিবার ছেড়ে এখানে ওখানে ঘুরে বহরমপুরে চলে আসে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াতে থাকে। সেখানেও তাকে অনেকে ব্যঙ্গবিদ্রুপ করত। ত্রিনাথকে দেখে স্থানীয় এক হোটেল ব্যবসায়ীর মায়া হয়। তিনি নিজের হোটেলে তাকে রেখে কাজ করতে সুযোগ দেন। লোকজনকে খাবার দেওয়া, হোটেল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, বাসন মাজার কাজ করতে থাকে সে। আনুগত্য ও বিশ্বাসের জোরে হোটেল মালিকের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে ওঠে সে। হোটেল মালিককে বাবা বলে ডাকত ত্রিনাথ।
মালিক পক্ষে থাকলেও হোটেলের অন্যান্য কর্মচারী এবং খেতে আসা যুবকরা তাকে বৃহন্নলা বলে খেপাত। কয়েকমাস পর হোটেল মালিক ত্রিনাথের থাকার জন্য ব্যবস্থা করে দেন। দয়ানগর এলাকায় একটি জমি কিনে ওই ব্যবসায়ী একটা বাড়িও বানিয়ে দেন। সেখানেই ত্রিনাথ থাকতে শুরু করে। পরে ওই হোটেল মালিকের পরিবারের লোকজন বাড়ি করে দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে সেখানে থাকতে দেওয়ার ব্যাপারে আপত্তি জানান। তখন ওই ব্যবসায়ী নিজেই ত্রিনাথের নামে সেই জমি হস্তান্তর করে দেন। তারপর থেকে বহাল তবিয়তে সেখানে থাকতে শুরু করে সে। ওই বাড়িতে থেকে এলাকার বাসিন্দাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছিল বলে অভিযোগ।
ত্রিনাথের সঙ্গে যোগাযোগ করে অপর এক সাধু এলাকায় যাতায়াত শুরু করে। সে সাধুর বেশে এলাকায় মানুষকে একের পর এক নিদান দিত। তার সঙ্গে যোগসাজশে ত্রিনাথও এলাকার বাসিন্দাদের অভিশাপ দিয়ে তাঁদের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার চেষ্টা করেছিল। ত্রিনাথের সঙ্গী সাধু এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ঢুকে নানা উপায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য হোমযজ্ঞ করার আয়োজন করতে থাকে। তারজন্য কারও কাছে ৩০ হাজার, কারও কাছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করত। ত্রিনাথের পরামর্শেই এই গোটা কাজ হয়েছিল বলে দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দেখতে সাদাসিধে হলেও ত্রিনাথ মোটেও সুবিধার ছেলে নয়। সে এলাকার বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে ঝামেলা করত। কিছুদিন অন্তর তার সঙ্গে এলাকার লোকজনের সমস্যা তৈরি হতো। একজনকে বাবা পাতিয়ে তাঁর সব শোষণ করছে। অন্য যুবকদেরও নানা কুপ্রস্তাব দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করত। ওকে এলাকায় যেন আর ঢুকতে না দেয় পুলিস।
বহরমপুর থানার এক পুলিস অফিসার বলেন, ভণ্ড সাধুকাণ্ডে দু’জনকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে কিছু নতুন তথ্য পাওয়া গিয়েছে। তবে এই চক্রের মূল পান্ডা অর্থাৎ গুরু সাধুকে গ্রেপ্তারের জন্য আমরা বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি শুরু করেছি। তার মোবাইল নম্বরগুলি বন্ধ করে রাখা আছে। নেটওয়ার্কের তথ্য ধরে আমরা কয়েকটি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছি। তবে তার এখনও খোঁজ মেলেনি।