• আড্ডাস্থলে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেরামতি, গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ঘরের পাশে মাঠে আড্ডা দেওয়ার সময়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার রাতে হীরাপুর থানার ধ্রুবডাঙা সেবা সমিতির মাঠে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়েন আদিত্য মণ্ডল (২০)। তাঁকে প্রথমে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে  বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাতেই চাপা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। পুলিসের উচ্চ পদস্থ অফিসাররা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেন। পুলিস প্রাথমিক ভাবে জানতে পেরেছে, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কেরামতি দেখানো চলছিল। তখনই অসাবধানতাবশত গুলি চলে যায়।  কম বয়সী যুবকদের হাতে আগ্নেয়ান্ত্র আসছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মৃতের মা ঘটনার দায়ী করেন এলাকারই এক যুবককে। সে আবার তৃণমূল কংগ্রেসের ওয়ার্ড সভাপতি রাজেশ সিংয়ের গাড়ির চালক। 


    পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তখন প্রায় রাত সাড়ে এগারোটা। ইস্কোর অধীনে থাকা ধ্রুপডাঙা সেবা সমিতির মাঠে তখনও চলছিল যুবকদের আড্ডা। মৃতের দাদাও সেই আড্ডায় ছিল। তখনই আড্ডায় যোগ দেয় প্রভাবশালীর গাড়ির চালক। সে আসার পরই তার কাছে থাকা আগ্নেয়ান্ত্রটি বের করে। পুলিসের দাবি, তা নিয়ে বাকিরা আগ্রহ প্রকাশ করে নানা কেরামতি দেখাতে থাকে। যাতে আদিত্য ও তাঁর দাদাও সামিল ছিল। তখনই কোনওভাবে গুলি চলে। গুলি আদিত্যর চোখ ভেদ করে ঢুকে মাথা ফুটো করে বেরিয়ে যায়।  সঙ্গে সঙ্গে সকলে গা ঢাকা দেয়। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে আসানসোল জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিস জানতে পারে, গাড়ি চালকের কাছেই ছিল আগ্নেয়াস্ত্রটি। সে কিন্তু গুলি চালায়নি। গুলি চালিয়েছে আড্ডার ঠেকের আরেক সদস্য। শুক্রবার পুলিস তাকে আটকও করেছে। অন্যদিকে, আদিত্যর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।  
  • Link to this news (বর্তমান)