• বামনডাঙা চা বাগানে চিতাবাঘের দৌরাত্ম্য চরমে, পটকা ফাটিয়ে চলছে কাজ
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: গত এক সপ্তাহে নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙা চা বাগানে চিতাবাঘ খুবলে খেয়েছে ৩০টি ছাগল, ২২টি গোরু। বাগানে চিতাবাঘের আতঙ্ক এতটাই জাঁকিয়ে বসেছে যে পাতা তোলার আগে শ্রমিকরা পটকা ফাটিয়ে নিশ্চিত হয়ে তবেই কাজে নামছেন। অন্যদিকে, এই চা বাগানে গত বৃহস্পতিবার রাতে হাতির হামলায় দু’টি দোকান সহ সাতটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একদিকে চিতাবাঘ অন্যদিকে হাতির আক্রমণে দিশাহারা অবস্থা শ্রমিকদের। উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই এই চা বাগানের ৬ নম্বর সেকশনে বনদপ্তরের পেতে রাখা খাঁচায় একটি চিতাবাঘ ধরা পড়ে। কিন্তু তার পরদিন থেকেই আরও বেশি করে শুরু হয়ে যায় চিতাবাঘের অত্যাচার। ছাগল, গোরু তুলে নেওয়ার পাশাপাশি চা বাগানে কাজ করতে গেলে শ্রমিকদের তাড়া করত চিতাবাঘ। এরপর থেকেই বাগানে কাজ করার আগে শব্দবাজি ফাটানো শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। 


    বাগানের এক কর্মী মাহাত ওরাওঁ বলেন, একটি চিতাবাঘ ধরা পড়ার পর থেকেই অত্যাচার আরও বেড়ে গিয়েছে। চা বাগানে কাজ করতে গেলেই শ্রমিকদের তাড়া করছে চিতাবাঘ। বর্তমানে পটকা ফাটিয়ে চিতাবাঘ তাড়িয়ে কাজ শুরু করা হচ্ছে। বাগানের আরেক স্থায়ী কর্মী শিবু ভুঁইমালি বলেন, এই চা বাগানে একটা নয় একাধিক চিতাবাঘ আছে। আশ্চর্যের বিষয় হল চিতাবাঘের উৎপাত আগেও ছিল কিন্তু এতটা নয়। চিতাবাঘ ধরা পড়ার পর থেকেই অত্যাচার কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। একসপ্তাহে ৩০টি ছাগল ও ২২টি গোরু মেরে ফেলেছে চিতাবাঘে। আমরা চাই চিতাবাঘ ধরার জন্য একাধিক খাঁচা পাতা হোক। 


    বনদপ্তরের খুনিয়া রেঞ্জের রেঞ্জার সজল কুমার দে বলেন, চা বাগান কর্তৃপক্ষ আমাদের জানিয়েছে। আমরা দ্রুত খাঁচা পাতার ব্যবস্থা করছি। তবে হঠাৎ করে ওই চা বাগানে চিতাবাঘের অত্যাচার বেড়ে গেল কেন বুঝতে পারছি না। তবে হাতির হামলায় ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ পাবে। 


    উল্লেখ্য, নাগরাকাটা ব্লকের মধ্যে প্রত্যন্ত এই বাগানটি গোরুমারা ও ডায়না জঙ্গল দিয়ে ঘেরা। এই চা বাগানে চিতাবাঘের পাশাপাশি হাতির হামলায় আতঙ্কে রয়েছেন বাসিন্দারা।  
  • Link to this news (বর্তমান)