• পড়ুয়ার সংখ্যা তলালিতে, ধুঁকছে সরকারি ইংরেজি মাধ্যমের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: কয়েক বছর আগে ঘটা করে জলপাইগুড়ি শহরে চালু হয়েছিল পাঁচটি সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম প্রাইমারি স্কুল। কিন্তু, উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সবক’টি। কোনও স্কুলে ছাত্র সংখ্যা তলানিতে এসে ঠেকেছে। ফলে লাটে উঠেছে পড়াশোনা। নামকাওয়াস্তে স্কুল খোলা হচ্ছে। মিড ডে মিল খাইয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। কোথাও আবার পড়ানোর মতো শ্রেণিকক্ষই নেই। ফলে একটি ঘরে চলছে চারটি ক্লাস।


     যে ঘরে পড়াশোনা চলছে, সেখানেই মিড ডে মিল খাওয়ার ব্যবস্থা। জলপাইগুড়ি জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক শ্যামলচন্দ্র রায়ের বক্তব্য, ‘গোটা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার চেষ্টা চলছে। যেসমস্ত স্কুলে পরিকাঠামো উন্নত করার প্রয়োজন, আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। ’ 


    জলপাইগুড়ি মেহেরউন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক বিভাগটি ইংলিশ মিডিয়াম। এখানে একসময় একশোরও বেশি পড়ুয়া ছিল। এখন দাঁড়িয়েছে ২৬ জন। অথচ চারজন শিক্ষক। স্কুলের প্রাথমিক বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অভিজিৎ সরকার বলেন, ‘আধার কার্ড না থাকায় অনেক পড়ুয়ার এনরোলমেন্ট করা যায়নি। এর জেরে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমেছে। তাছাড়া পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির সমস্যা তো আছেই।’  


    মোহন্তপাড়া বিবেকানন্দ ইংলিশ অ্যাকাডেমির অবস্থাও একই। খাতায়কলমে পড়ুয়া ৭০। কিন্তু, নিয়ম করে অর্ধেকও স্কুলে আসে না। সদাগরপট্টি আর আর প্রাইমারি সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে পরিকাঠামো বলতে কিছুই নেই। বরাদ্দ সাকুল্যে একটি ঘর। তারমধ্যেই চলে চারটি ক্লাস। একসময় একশোর বেশি পড়ুয়া ছিল। এখন হয়েছে ৫৭। পাঁচজন শিক্ষক। চারজন পড়ান। একজন অফিসের কাজকর্ম সামলান। স্কুলের টিচার ইনচার্জ রীতা ঝা বলেন, ‘খুবই কষ্ট করে স্কুল করতে হয়। যেখানে ক্লাস হয়, সেখানেই আবার মিড ডে মিল। ’ 


    সরকারি ইংলিশ মিডিয়াম প্রাইমারি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পাশ করে পঞ্চমেও যাতে পড়ুয়ারা ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করতে পারে, সেজন্য জলপাইগুড়ি শহরের সদর গার্লস ও ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনে চালু হয়েছিল ইংলিশ মিডিয়াম। কিন্তু, প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও পরিকাঠামোর অভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে সেই উদ্যোগ। 


    বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছাত্র ভর্তি। ফণীন্দ্রদেব ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক প্রকাশ কুণ্ডু বলেন, ‘আমাদের তরফে উদ্যোগের কোনও ঘাটতি নেই। কিন্তু, প্রকৃত অবস্থা কী তা জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানানো হয়েছে।’ জলপাইগুড়ি মেহেরউন্নেসা উচ্চ বিদ্যালয়ের টিচার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমার স্কুলের প্রাথমিকে ইংলিশ মিডিয়াম রয়েছে। সেখানকার পড়ুয়ারা যাতে পঞ্চমেও ইংরেজি মাধ্যমে পড়তে পারে, সেজন্য রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।’ 
  • Link to this news (বর্তমান)