• দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ইস্যুতে উত্তপ্ত বিধানসভা সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাদানুবাদ
    বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাজারে আনাজপাতির আগুন-দামের ছেঁকা এবার অনুভূত হল বিধানসভায়। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশনের প্রথমার্ধে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে মুলতুবি প্রস্তাব আনে বিজেপি। অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় তা গ্রহণ করেন। প্রস্তাবের পক্ষে বলতে উঠে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন বিজেপি বিধায়করা। পাল্টা ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে একাধিক মন্ত্রী মূল্যবৃদ্ধির দায় কেন্দ্রের সরকারের ঘাড়ে চাপান। সরকার ও বিরোধী পক্ষের তীব্র বাদানুবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠে বিধানসভা। ‘এত দাম খাব কী’ লেখা থালা নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপি বিধায়করা। পাল্টা স্লোগান দেন তৃণমূল বিধায়করা। এরপরই প্রতিবাদে অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেন বিজেপি বিধায়করা। 


    এদিন প্রস্তাবের পক্ষে বলতে উঠে শাক-সব্জির পাশাপাশি বিদ্যুতের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সরব হন বিজেপি বিধায়ক নরহরি মাহাত। তিনি বলেন, ‘সব্জির দাম আকাশছোঁয়া। এক শ্রেণির মুনাফাখোর বেআইনি মজুত করে কালোবাজারি চালাচ্ছে। অথচ রাজ্য সরকার এই ফড়ে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে ব্যর্থ।’ তিনি আরও বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, কয়েকদিনের মধ্যে দাম নাগালের মধ্যে চলে আসবে। কিন্তু এখনও বাজারদর কমেনি।  রাজ্য বিদ্যুৎ সংস্থাও চড়া হারে বিল পাঠাচ্ছে, গরিব প্রান্তিক মানুষের পক্ষে যা মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’ পাল্টা কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় সরকারের এক্তিয়ারভুক্ত। রাজ্য সরকারের কিছু করার নেই।’ তাঁর আরও অভিযোগ, মোদি সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন তুলে দিয়েছে। তাই আগে এই আইনের বলে রাজ্যগুলি দাম নিয়ন্ত্রণে কিছু পদক্ষেপ করার সুযোগ পেলেও বর্তমানে তা নেই। তবে মুখ্যমন্ত্রী দাম নাগালে রাখতে নিয়মিত বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি, রাজ্যবাসীকে সুলভ মূল্যে সবজির জোগান নিশ্চিত করতে ৬০০টি সুফল বাংলা স্টল খোলা হয়েছে বলে জানান তিনি। 


    অন্যদিকে, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দাবি করেন, বাংলায় বিদ্যুতের দাম এক পয়সাও বাড়েনি। উল্টে তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কোল ইন্ডিয়া থেকে কয়লা দিচ্ছে না। বাড়তি দামে খোলা বাজার থেকে তা কিনতে হচ্ছে। যার জন্য উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও গ্রাহকদের থেকে অতিরিক্ত মাশুল নেওয়া হয় না। রাজ্য বিদ্যুৎ পর্যদ এলাকায় ইউনিট পিছু ৭টাকা ১২ পয়সা দাম ছিল, এখনও সেটাই রয়েছে। এদিন প্রশ্নোত্তর পর্বে শ্রমমন্ত্রী মলয় ঘটক জানান, কেরলের ওয়েনাড়ে ভূমিধসে বাংলার ২৪২ জন শ্রমিক আটকে রয়েছেন। চলতি বছরের ৩১মে পর্যন্ত হিসেব, রাজ্যে নথিবুক্ত পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা ২১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৩৭। 
  • Link to this news (বর্তমান)