‘নিষেধ সত্ত্বেও বাইক চালায় কিছু পড়ুয়া’, দুর্ঘটনায় মৃত ছাত্রের স্কুলে সচেতনতা শিবির পুলিসের
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোর পৌনে পাঁচটা নাগাদ মুকুন্দপুর বাইপাসের উপর পুলিসের ডিভাইডারে তীব্র গতিতে ধাক্কা মেরেছিল একটি স্পোর্টস বাইক। সেই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছিল আকাশ মাখাল নামে এক স্কুল ছাত্রের। সে গাঙ্গুলিবাগানের মুকুল বোস মেমোরিয়াল ইনস্টিটিউটের একাদশ শ্রেণির ছাত্র ছিল। শুক্রবার কলকাতা পুলিসের গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিকরা তার স্কুলে একটি সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করেছিলেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপান্বিতা বন্দ্যোপাধ্যায় সান্যাল এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বহুবার বলার পরও স্কুলের ছাত্ররা বাইক নিয়ে আসছে। অভিভাবকদের বলার পরও কোনও লাভ হয়নি।’
এদিন স্কুলে বিভিন্ন সচেতনতামূলক ভিডিও পড়ুয়াদের দেখায় ট্রাফিক পুলিস। একাদশ শ্রেণিতে এই বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল আকাশ। এদিন তার বন্ধু রাহুল ঘোষ, ঋষভ দত্তরা বলেছে, ‘কলা বিভাগে পড়ত আকাশ। বলত, ছোট থেকেই বাইকের শখ। সেদিন শুনেছিলাম, একটা বন্ধুর জন্মদিন থেকে ফিরছিল।’ আকাশের স্মৃতিতে এদিন নীরবতা পালন করে শেষ হয় শিবির। পুলিস আধিকারিকরা বলেন, এটাই যেন এই স্কুলে শেষবারের জন্য নীরবতা পালন হয়। এদিন উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পুলিসের অতিরিক্ত কমিশনার সমীর পাঁজা, গড়িয়া ট্রাফিক গার্ডের ওসি শেখ নাজমুল হোসেন সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।
সচেতনতা শিবিরে প্রধান শিক্ষিকার বক্তব্য, ‘আজও জনা তিনেক ছাত্র বাইক নিয়ে স্কুলে এসেছে। তাদের অনেকেরই হেলমেট নেই। আমি বারবার ওদের বারণ করেছি। এবার পুলিসের কাছ থেকে শুনে যদি কিছু বোঝে। ওদের জন্যই তো বলছি। অভিভাবকদেরও ডেকে বলা হয়েছে, ওদের হাতে বাইকের চাবি তুলে দেবেন না। কিন্তু তবুও দেখি বাইক নিয়েই পড়ুয়ারা আসছে।’ পুলিস আধিকারিকরা বলেন, সব কিছুর জন্য একটা বয়স রয়েছে। স্কুলে পড়ছে মানে ধরে নিতে হবে, তোমাদের কারওর বয়স ১৮ বছরের বেশি নয়। তাহলে এখন তো বাইক চালানোর বয়স নয়। এর পাশাপাশি পড়ূয়াদের বলা হয়, তারা যেন বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদেরও হেলমেট ব্যবহার করার জন্য সচেতন করে। -নিজস্ব চিত্র