বৃষ্টিতে হাঁটুসমান জল, বিদ্যুতের খোলা তারে ছাতা ঠেকতেই মৃত্যু কলেজছাত্রীর
বর্তমান | ০৩ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাশের পাড়ায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য বৃষ্টির জমা জল ডিঙিয়ে যাচ্ছিলেন কলেজ ছাত্রী। বাড়ির উল্টোদিকের একটি দোকানের সামনে ঝুলছিল বৈদ্যুতিক তার। সেটাই যে মৃত্যুফাঁদ, বুঝতে পারেননি তিনি। বৃহস্পতিবার রাতে সেই তারের স্পর্শেই মৃত্যু হয় ওই কলেজ ছাত্রীর। মৃতার নাম পৌরবী দাস (২২)। হাওড়ার সালকিয়ায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে। এদিন হাওড়া পুরসভার বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মালিপাঁচঘরা থানার পুলিস। সালকিয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ড ভৈরব ঘটক লেনের বাসিন্দা পৌরবী। বিদ্যাসাগর কলেজের জুলজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিলেন তিনি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ বোনকে সঙ্গে নিয়ে পাশের পাড়ায় এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাবেন বলে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন তিনি। উল্টোদিকে বন্ধ চায়ের দোকানের সামনে ঝুলতে থাকা একটি বিদ্যুৎবাহী তারে তাঁর ছাতা ঠেকতেই বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে রাস্তার জমা জলে ছিটকে পড়েন পৌরবী। বাড়ির নীচেই ইলেকট্রিক সামগ্রী মেরামতির দোকান ছাত্রীর বাবা তারক দাসের। মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে তিনিও বিদ্যুৎপৃষ্ট হন। তারকবাবুর চিৎকার শুনে এক প্রতিবেশী বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটাই দেরি হয়ে গিয়েছে। পরিবারের সদস্যরা পৌরবীকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলার রুজু করেছে পুলিস।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই চায়ের দোকানের পিছনেই রয়েছে একটি নির্মীয়মাণ বিল্ডিং। সেখান থেকেই একটি বিদ্যুৎবাহী খোলা তার দোকানের বন্ধ শাটারের গায়ে ঠেকে ছিল। পাশাপাশি টানা বৃষ্টির জেরে এলাকায় প্রায় হাঁটু সমান জল। তার জেরেই মর্মান্তিক পরিণতি হয়েছে ওই ছাত্রীর। ঘটনার পর থেকে এদিন দুপুর পর্যন্ত এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখা হয়। এদিকে, তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার এলাকায় এলে তাঁকে ঘিরে রীতিমতো বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। এলাকায় জমা জলের সমস্যা দূর করার পাশাপাশি হুকিং বন্ধ করার দাবি জানান তাঁরা। বাসিন্দারা বলেন, সামান্য বৃষ্টি হলেই গোটা পাড়া সুইমিং পুলের চেহারা নেয়। বৃষ্টি থেমে গেলেও চার-পাঁচদিনের আগে জল নামে না। এর জন্য পুরসভাই দায়ী।
হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তীর দাবি, এর আগেও ওই বিল্ডিংয়ে বেআইনি নির্মাণ নিয়ে নোটিস দেওয়া হয়েছিল। ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য হুকিংই সম্ভবত দায়ী। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুরসভার তরফে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, ছোট থেকেই মেধাবী ছাত্রী হিসেবে পরিচিত ছিলেন পৌরবী। এই ক্ষতি অপূরণীয়। পুরসভার গাফিলতি থাকতে পারে। এদিন দুপুরে ভৈরব ঘটক লেন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, তখনও প্রায় হাঁটু সমান জল। বন্ধ চায়ের দোকানের শাটারের পাশেই বৈদ্যুতের খুঁটি থেকে ঝুলছে অসংখ্য খোলা তার।