নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: র্যাগিংয়ে রাশ টানতে অধ্যাপকদের হস্টেল ওয়ার্ডেন হিসেবে নিয়োগ করে নজরদারি চালাবে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। শুক্রবার এক সাংবাদিক বৈঠকে উপাচার্য ভাস্কর গুপ্ত জানিয়েছেন, ইউজিসির সুপারিশেই এই পথে হাঁটা হচ্ছে। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ হস্টেলের করিডরে সিসিটিভি বসানোর বিপক্ষে আন্দোলন করেন। তবে, করিডরে সিসিটিভি বসানোর পক্ষেই বিশ্ববিদ্যালয় পদক্ষেপ করছে বলে এদিন জানান উপাচার্য। যদিও অন্দরের খবর, এটা নিয়ে এখন চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।
হস্টেলের সুপার পদে অনেক ক্ষেত্রেই অধ্যাপকরা দায়িত্ব সামলেছেন। তবে, ওয়ার্ডেনরা শুধুমাত্র অধ্যাপকরাই হতে পারবেন। পাশাপাশি হস্টেল সুপার পোস্টটিও থাকছে। অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে ফিজিক্যাল এডুকেশন বিভাগের অধ্যাপক শ্রীদীপ চট্টোপাধ্যায়কে। তিনি বিভিন্ন কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে র্যাগিংয়ে নজরদারি করবেন। বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন রাতের হস্টেলে নজর রাখার জন্য। এই পদে আগে ছিলেন সুমন নীহার। তিনি প্রয়াত হওয়ার পরে ফাঁকাই ছিল পদটি। এর পাশাপাশি, একটি অ্যান্টি র্যাগিং সেলও খোলা হচ্ছে। এছাড়া, অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি এবং স্কোয়াড থাকছেই। স্কোয়াডের কাজ মূলত হবে দিনের বেলায় নজরদারি। উপাচার্য বলেন, ক্যাম্পাস থেকে র্যাগিংয়ে উৎখাত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।
প্রথম বর্ষের জন্য ক্যাম্পাসের মধ্যেই ওল্ড পিজি (৯০টি আসন) এবং নিউ ব্লক (৮০টি) হস্টেল চিহ্নিত হয়েছে। সায়েন্স ফ্যাকাল্টির জন্য হস্টেল বরাদ্দ শুরু হয়েছে। কিছু ছাত্রছাত্রী ভর্তিও হয়ে গিয়েছেন। ৪ আগস্টের মধ্যে কলা বিভাগের পড়ুয়াদেরও হস্টেল দেওয়া শুরু হবে। কোনও জুনিয়রের হস্টেলে সিনিয়ররা যেতে পারবেন না। দ্বিতীয় বর্ষ এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য বরাদ্দ থাকবে জেপিজেইউ এবং নিউ বয়েজ হস্টেল। তবে, হস্টেল পৃথকীকরণ হলেও এখনও র্যাগিংয়ে অভিযুক্তদের শাস্তি একবছর বাদেও কার্যকর করা যায়নি। তাঁদের উদ্দেশে শোকজের চিঠি পাঠানো হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘সোম মঙ্গলবার থেকে চিঠি গিয়েছে। এখনও উত্তর মেলেনি। জবাবের জন্য চিঠি প্রাপ্তির পর থেকে অবশ্য ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তাই এখনও সময় রয়েছে।’