নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: টেন্ডার নিয়ে কথা কাটাকাটি। আর সে ঘটনা ঘিরে কার্যত তুলকালাম বিডিও অফিসে। এই ঘটনায় সরকারি দপ্তরের ভিতরেই ‘আক্রান্ত’ ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার (বিডিও) পদমর্যাদার আধিকারিক। তাঁকে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রতন দাসের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে হাবড়া দু’নম্বর বিডিও অফিসের ভিতরেই। বিডিওকে জলের বোতল ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। সভাপতিও পাল্টা কাজে গাফিলতি নিয়ে ওই বিডিওর বিরুদ্ধে জেলাশাসককে অভিযোগ জানিয়েছেন। রাজ্যের কারামন্ত্রী এক মহিলা রেঞ্জ অফিসারকে মারধরের হুমকি দিয়েছেন বলে রাজ্যজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার মধ্যেই হাবড়ায় বিডিও নিগ্রহের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে সর্বস্তরে। প্রসঙ্গত এর আগেও ভাঙরের তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক শিক্ষিকাকে জলের জগ ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছিল।
জানা গিয়েছে, হাবড়া দু’নম্বরের বিডিও সীতাংশুশেখর শিটের সঙ্গে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যদের বেশ কিছুদিন ধরে কিছু বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য চলছে। জেলাশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগও জমা পড়েছে। দিনকয়েক আগে ব্লকের একটি কাজের জন্য টেন্ডার সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে বিডিওর সঙ্গে রতন দাসের কথা কাটাকাটি হয়। তারপরই টেন্ডার কক্ষেই বিডিওকে বোতল ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ। রতনবাবুর সাফাই, ‘বোতল ছোড়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিডিও উন্নয়নের কোনও কাজই করেন না।’ প্রতিক্রিয়া জানতে বিডিওকে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। রাজ্য বিজেপির সদস্য তাপস মিত্র বলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের পক্ষে লজ্জার।’ বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘নিজেদের মধ্যে কোনও একটা সমস্যা হয়েছে। জেলাশাসক বিষয়টি দেখছেন। জেলাশাসক আমায় বলেছেন, বিডিওর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে তাঁর কাছে।’ উত্তর ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, ‘ঘটনাটি অনভিপ্রেত। এটা না হওয়াই উচিত ছিল। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের সুসম্পর্ক থাকার দরকার। বিষয়টি জেলা প্রশাসন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।’