রামপুরহাট মেডিক্যালে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: শনিবার রাতে চিকিৎসার গাফিলতিতে রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার বাঁধল রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রোগীর প্রায় শখানেক আত্মীয় হাসপাতালে ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রচুর ইনজেনকশন ভেঙে দেওয়ার পাশাপাশি ওষুধপত্র নষ্ট করে দেয়। মারধর করা হয় কর্তব্যরত ইর্ন্টান চিকিৎসকের। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসলে পুলিসকেও মারধর করে তাঁরা। এরপরই পুলিস ও সিকিউরিটি কর্মীরা উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বেশ কয়েকজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। জানা গিয়েছে, মুরারইয়ের হাবিশপুরের বাসিন্দা বছর সাতাশের আনসারুল শেখ নামে এক যুবক বাইক থেকে পড়ে মাথায় চোট পান। দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। যুবকের আত্মীয় রয়েল শেখ বলেন, এমারজেন্সিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা দেখে সার্জিক্যাল ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেয়। তারপর থেকে আর কোনও চিকিৎসক আসেনি। যদিও আনসারুল ভালো ছিল। দুপুরে বেডে বসে খাওয়াদাওয়া করেছে। পরে তার শরীর জ্বালা করায় ও অস্বস্তি বোধ করায় হাসপাতাল থেকে সিটিস্ক্যান ও এক্সরে করে আনার জন্য বলে। আমরা বাইরে থেকে সেগুলি করিয়ে নিয়ে আসি। নার্সরা দেখে বলে ভালোই আছে। রাত পৌনে নটা নাগাদ চিকিৎসক এসে রিপোর্ট দেখে একটি ইনজেকশন দেয়। তার দশ মিনিটের মাথায় রোগী মারা যায়। এরপরই চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পরিজনরা। পরে ফোন করে আরও প্রায় শখানেক লোক ডেকে নেয়। এরপরই তাণ্ডব শুরু করে। আতঙ্কে ওয়ার্ডের ইর্ন্টান চিকিৎসকরা একটি ঘরে ঢুকে দরজা লাগিয়ে দেয়। লক ভেঙে সেই রুমে ঢুকে এক ইর্ন্টানকে মারধর করে। ওয়ার্ড ও নার্সদের বসার জায়গায় থাকা আলমারি উল্টে দিয়ে প্রচুর ইনজেকশন ভেঙে দেয়। পুলিস আসলে তাঁদেরও মারধর করে। এরপরই লাঠিচার্জ করে পুলিস। ঘটনায় চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিস।