সংবাদদাতা, বোলপুর: বিশ্বভারতীর আপত্তির জেরে অবশেষে শান্তিনিকেতন কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতির থেকে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি সরাল বোলপুর পুরসভা। দু’টি জেসিবি মেশিন নিয়ে এসে সকাল ও দুপুর দুই পর্যায়ে মূর্তি সরানোর কাজ সম্পূর্ণ করেছে পুরসভা। শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ স্বীকৃতির বিষয়ে শুক্রবার প্রশাসনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করে বিশ্বভারতী। সেখানে বেশ কিছু ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার আগেই বিশ্বভারতীর আপত্তির প্রেক্ষিতে মূর্তি সরিয়ে দেবেন বলে পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ জানিয়েছিলেন। বৈঠকে পুরসভা ও প্রশাসন হেরিটেজ সংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক ভূমিকা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ার পর এদিন মূর্তি সরানোর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়া শুরু হল।
শান্তিনিকেতনের কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতিতে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি বসানোর পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। বিশ্বভারতী মূর্তি ও ব্যক্তি পুজোর বিরোধী। সেই আপত্তি জানতে পেরে মূর্তি উদ্বোধন স্থগিত করে দেয় পুরসভা। সেই বিতর্কেরই ইতি টানতে শনিবার অবশেষে ১২ ফুট উচ্চতার মূর্তিটি সরিয়ে নিলেন পুরসভার আধিকারিকরা। শান্তিনিকেতনের হেরিটেজ বাফার জোনের বাইরে পুর এলাকায় সেই মূর্তি স্থাপন করা হবে বলে পর্ণাদেবী জানিয়েছেন। পাশাপাশি, শান্তিনিকেতন রোড, রবীন্দ্র ভবনের রাস্তায় যানজট পরিস্থিতি নিয়েও প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, গতবছর সেপ্টেম্বর মাসে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পায় শান্তিনিকেতন। কিন্তু, তারপর থেকে উপাসনা গৃহ থেকে রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন রাস্তায় যানজট ও বিশৃঙ্খলাময় পরিস্থিতিতে জেরবার বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। এমনকী, শান্তিনিকেতন রোড সংলগ্ন বাফার জোন এলাকায় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সৌন্দর্যায়ন, দোকানপাট বসা নিয়েও বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট নয়। পাশাপাশি, শান্তিনিকেতন মূর্তি ও ব্যক্তি পুজোর পরিপন্থী হওয়ার পরেও হেরিটেজ বাফার জোন সংলগ্ন কবিগুরু হস্তশিল্প সমিতিতে রবীন্দ্রনাথের মূর্তি বসায় পুরসভা। সেই বিষয়েও আপত্তি তোলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কারণ, শান্তিনিকেতন যে ভাবনার প্রেক্ষিতে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ স্বীকৃতি পেয়েছে, তা ক্ষুণ্ণ হলে স্বীকৃতি ধরে রাখা কঠিন হবে, এমনটাই কর্তৃপক্ষের দাবি। সেই বিষয়টি জানতে পেরে তৎপর হয় জেলা পুলিস ও প্রশাসন। তার প্রেক্ষিতে শুক্রবার এসডিপিও রিকি আগারওয়াল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতো সহ অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যোগদান করে বোলপুর পুরসভা, বোলপুর ও শান্তিনিকেতন থানার পুলিস, ট্রাফিক, পিডব্লুডি দপ্তরের আধিকারিক সহ টোটো চালক সমিতি। বৈঠক প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মসচিব অশোক মাহাতো বলেন, শান্তিনিকেতন সহ আশপাশের এলাকায় যানজট মুক্ত করার আবেদন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তাঘাট পরিষ্কার, হকার ও টোটো সহ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট পার্কিং জোন প্রভৃতি করার জন্যও প্রশাসনকে আর্জি জানিয়েছি। এছাড়া যেখানে যেখানে অবাঞ্ছিত কাজকর্ম হচ্ছে, তা দেখার জন্য প্রশাসনকে বলেছি। তারা দ্রুত সমাধান করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে। তাতে আমরা খুশি। তার প্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে এদিন রবীন্দ্রনাথের মূর্তি সরানোর মধ্য দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়াল বোলপুর পুরসভা। অন্যান্য বিষয়েও পুরসভা ও প্রশাসন দ্রুত কাজ করবে বলে জানিয়েছে।