• কুনুরের জলে প্লাবিত গুসকরা শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, কাটোয়া: কুনুর নদীতে জল বেড়ে যাওয়ায় গুসকরা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড প্লাবিত হল। শুক্রবার রাতের মধ্যেই জল ঢুকে যাওয়ায় বাসিন্দারা আটকে পড়েন। শনিবার ভোর থেকেই তাঁদের ভেলায় উদ্ধার করেন পাড়ার যুবকরা। বাড়ির ভিতরে জলের স্রোত বইছে। বহু বাসিন্দা আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের উদ্ধার করে ক্লাব বা স্কুলে রাখা হয়।


    গুসকরা শহরের ১, ২, ৩ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে গিয়েছে। লাইনপাড় এলাকা ১২, ১৩ নম্বর ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডেও বহু বাড়িতে জল ঢুকেছে। শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রটন্তী কালীতলাও প্লাবিত হয়েছে। গুসকরার পার্শ্ববর্তী দোনাইপুর, কমলনগরের চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। শহরের মাঝখান দিয়ে বয়ে চলেছে কুনুর নদী। আর শহরের ভৌগোলিক অবস্থান অনেকটা কড়াইয়ের মতো। বিভিন্ন ওয়ার্ডে জল জমে গিয়েছে। বেশ কয়েকটি মাটির বাড়ি ভেঙে পড়েছে। শহরের মেলবন্ধন সেতু জলের তলায়। 


    ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সীতা মাহাত, ছন্দা মাহাত বলেন, আমরা রাতে ঘুমিয়েছিলাম। মাঝরাতে জলের শব্দে ঘুম ভাঙে। কুনুর নদীর জলে ঘর প্লাবিত হয়েছে। জলে আমরা আটকে পড়েছিলাম। পাড়ার ছেলেরা আমাদের ভেলা বানিয়ে উদ্ধার করেছে। ঘরের জিনিসপত্র বের করতে পারিনি। ২নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বীণা বিশ্বাস, সুকান্ত বিশ্বাস বলেন, রাতের মধ্যে এতটা জল বেড়ে যাবে ভাবতে পারিনি। ঘরের মধ্যেই নদীর জলের স্রোত দেখে আমরা ভয় পেয়ে যাই। গুসকরা শহরের বাসিন্দা সন্তোষ ঠাকুর বলেন, শহরের মধ্যে কুনুরের জল ঢুকে গিয়েছে। বহু মানুষ আটকে পড়েছিলেন। তাঁদের আমরা উদ্ধার করেছি৷ 


    গুসকরার কমলনগর, দোনাইপুর, কোন্নগর, কাটাটিকুরি, ধরমপুর, দিঘে কেলেটি, সোঁয়ারা প্রভৃতি এলাকার এখন ভয়ঙ্কর চেহারা। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে অনেকে আশ্রয় খুঁজতে আত্মীয়ের বাড়ি যাচ্ছেন। কেউ যাচ্ছেন ত্রাণশিবিরে। গুসকরা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান বেলি বেগম বলেন, আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তৈরি আছি। দুর্গত মানুষদের নিরাপদ জায়গায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তাঁদের জন্য যথাযথ পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। পুরসভায় সর্বক্ষণের জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)