বুকে ব্যথা-শ্বাসকষ্ট, কালাচ-দংশনের নতুন উপসর্গে হতবাক চিকিৎসকরা!
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: সকাল সাড়ে ৫টা নাগাদ ফুলগাছের খেতে গিয়েছিলেন। ভালো লাগছিল না শরীরটা। এক ছেলে সঙ্গে ছিল। সাড়ে ৭টা অবধি কোনওক্রমে কাটালেন। বাড়ি ফিরে জানালেন সব কথা। প্রচন্ড বুক আর গলা ব্যথা করছে। ঢোঁক গিলতে কষ্ট হচ্ছে। শ্বাসকষ্টও হচ্ছে। আর হচ্ছে তলপেটে অস্বস্তি। তারপর এ হাসপাতাল, সেই ডাক্তার। শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে অজ্ঞান হয়ে গেলেন ঘোড়াঘাটার ভোলানাথ বিশ্বাস। বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট দেখে হার্ট অ্যাটাক ভেবে সংজ্ঞাহীন বলরামের ইসিজি, ট্রপটি সব হল। কিন্তু না, হার্টে কিছু হয়নি! বরং শরীরে জমে গুচ্ছ কার্বন ডাই অক্সাইড। রোগী শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ার দিকে এগচ্ছেন। ভেন্টিলেটরে পাঠানো হল বছর পয়তাল্লিশের চাষিকে।
কিন্তু এইচডিইউ-এর মেডিক্যাল অফিসার বিদেশ কর্মকারের খটকা লাগছিল। চাষি মানুষ। খেতে গিয়েছিলেন। তারপর থেকে অস্বস্তি। সাপের কামড় নয় তো? দুগ্গা দুগ্গা করে দফায় দফায় সবমিলিয়ে ৩০ ভাওয়েল অ্যান্টিভেনাম দিলেন। হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের চমকে দিয়ে শুধু জ্ঞানই ফিরল না, কথা বলার চেষ্টা করলেন। কিন্তু কিছুতেই চোখ খুলতে পারছিলেন না। অদ্ভুত ঘটনার কথা সুপার ডাঃ প্রহ্লাদ অধিকারীকে জানাতেই তিনি বললেন, ‘ক্যালসিয়াম কার্বনেট দাও।’ প্রথমে এভিএস, তারপর ক্যালসিয়াম কার্বনেট, সর্বোপরি সীমিত ক্ষমতার মধ্যেও সরকারি হাসপাতালের আন্তরিকতা। যমের দক্ষিণ দুয়ার থেকে মর্ত্যলোকে ফের প্রবেশ করলেন ভোলানাথ।
বুকে ব্যথা মানেই শুধু হার্ট অ্যাটাকই নয়,সর্পাঘাতও হতে পারে, বলরামের ঘটনায় তাজ্জব বনেছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের শীর্ষকর্তারাও। সর্পাঘাতের চিকিৎসায় রাজ্যের প্রশিক্ষক ডাঃ দয়ালবন্ধু মজুমদার বললেন,‘কম হয়। কিন্তু হয়। কালাচের কামড়ে হয়। কালাচ কামড়েছে নিশ্চিত হওয়ার একমাত্র উপায় রোগীর ‘টসিস’ বা ‘শিবনেত্র’ হওয়া। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হল, কামড়ে প্রায় দাগই থাকে না। ব্যথাও করে না। চুপচাপ রোগী মৃত্যুর দিকে এগয়। কিছুক্ষণ পরই গলা ব্যথা, ঢোঁক গিলতে কষ্ট হওয়া, পেট ব্যথা হয়। ব্যতিক্রমীক্ষেত্রে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্টও হয়। পেট ব্যথা শুনে তো বহু ডাক্তার ইউএসজিকরাতে বলে দেন!’
কালাচ দংশনের পর আশ্চর্যজনকভাবে বেঁচে ফেরা ভোলানাথ শনিবার বলেন, ‘রজনীগন্ধা ফুলের খেতে গিয়েছিলাম। ভোররাত থেকে অস্বস্তি হচ্ছিল। বুক, পেটে ব্যথা। কী যে কষ্ট হচ্ছিল! পরে সবাই ধরে নিয়েছিল মারা গিয়েছি। তিনদিন অজ্ঞান ছিলাম। ডাক্তারবাবুদের প্রতি অসীম কৃতজ্ঞতা। প্রণাম জানাই রাধামাধবকে। বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত আছেন উনি। ওঁরা মিলেই বাঁচিয়েছেন। সবাইকে বলব, বর্ষাকালের সময়টায় মেঝেয় শুয়ে বিপদ ডেকে আনবেন না। আসলে ডানহাতের আঙুলে কালাচ কামড়েছিল। আশ্চর্য সাপ। কিছুই বুঝতে পারিনি তখন।’