নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: এগারো হাজার টাকায় ‘বিক্রি’ হচ্ছে কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার সিভিকের চাকরি! স্ট্যাম্প পেপারের মাধ্যমে ‘ভুয়ো চুক্তিপত্র’ দিয়েই সিভিক পুলিসে চাকরির টোপ দেওয়া হচ্ছে। আর সেই প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিল কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার আর এক সিভিক ভলান্টিয়ার। এক টোটো চালককে সিভিকের কাজে ঢুকিয়ে দেওয়ার নাম করে সে টাকা নিয়েছিল বলে অভিযোগ। যার ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার পুলিস সেই প্রতারক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত সিভিক ভলেন্টিয়ারের নাম তারক দে। শুক্রবার রাতে কৃষ্ণনগর শহরের কালীনগর এলাকা থেকে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার তাকে কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হয়। বিচারক ১৪ দিনের জেল হেফাজতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে পুলিসের অনুমান, একজন নয়, একাধিক ব্যক্তির কাছে সিভিকের চাকরি দেওয়ার নামে টাকা তুলেছে সে।
কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, সিভিকে চাকরি দেওয়ার নাম করে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার টাকা নিয়েছিল। প্রতারণার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির বাসিন্দা দীপঙ্কর হালদার গত ৩১ জুলাই কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার অভিযোগ ছিল সিভিক পুলিসে চাকরি দেওয়ার নাম করে তারক দে নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ার তার থেকে টাকা নিয়েছে। তারক কোতোয়ালি ট্রাফিক অফিসের আওতায় কৃষ্ণনগরে সিভিক পুলিসের কাজ করে। অভিযোগকারী একজন টোটো চালক। দু’দফায় ওই সিভিক টোটো চালকের কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার নামে ১১ হাজার ৩৭০ টাকা নিয়েছিল। জুলাই মাসের শুরু থেকে সেই টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারী বলেন, কৃষ্ণনগর একটি স্কুলে আমি টোটো করে বাচ্চা নিয়ে যাই। তবে একদিন ওই সিভিক ভলান্টিয়ার আমাকে কাজের কথা বলে। তারপর সে একদিন বাড়িও আসে। বাড়ি এসে সে আমাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের পোস্টে ভ্যাকেন্সির কথা জানায়। ৩ জুলাই প্রথমে ২৯২০ টাকা আমার থেকে নেয়। তারপর দু’দিন বাদে আরও সাড়ে ৮ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু তারপর কাজ দেয়নি। আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসার জন্য টাকা ফেরত চেয়েছিলাম। তারপরেও দেয়নি। আমাদের গরিব পরিবারের ১১ হাজার টাকা চলে যাওয়া মানে অনেক। তাই আমি কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ করেছিলাম।
উল্লেখ্য সম্প্রতি কৃষ্ণনগর পুলিস জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় চাকরির নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটছে। কোথাও দেখা যাচ্ছে স্কুলে চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া হয়েছে। আবার কোথাও সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষাধিক টাকার প্রতারণা করা হয়েছে। কোতোয়ালি থানাতেই এই নিয়ে সম্প্রতি দু’টি মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এমনকী কালীগঞ্জ থানার পুলিস চাকরির নামে প্রতারণার জন্য একজন স্কুল শিক্ষককেও গ্রেপ্তার করেছে।