নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত রানাঘাট-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। নবনির্মিত জাতীয় সড়কের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া নিকাশির মাসুল দিচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। এরই প্রতিবাদে শনিবার ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন স্থানীয় মানুষজন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক স্তব্ধ হয়ে যায় জেলার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি। শেষ পর্যন্ত ব্লক প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ওঠে অবরোধ। কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন রানাঘাট-১ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। নাগাড়ে বৃষ্টিতে বিপন্ন স্বাভাবিক জনজীবন। কোথাও হাঁটু সমান জল, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি জল জমে রয়েছে। হবিবপুর পঞ্চায়েতের দত্তপাড়া, রাজবংশী পাড়া এলাকা কার্যত ডুবে রয়েছে জলের তলায়। বহু মানুষের বাড়ির ভিতর পর্যন্ত ভেসে গিয়েছে। অনেকেই স্থানীয় পাকা বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়েছেন। বন্যা পরিস্থিতির শিকার রামনগর, তারাপুর পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক গ্রামও। রাঘবপুর, সন্ন্যাসী বাজার, আঁইশতলা, কলাইঘাটা, তারাপুর, সুভাষপল্লিতে রীতিমতো ঢেউ খেলছে জল। জমা জলে বেড়েছে সাপ, পোকামাকড়ের উপদ্রব। বাধ্য হয়েই প্রাণ হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষ বসবাস করছেন বাড়িতে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের পর উপযুক্ত নিকাশি পরিকাঠামোই গড়ে তোলা হয়নি। একসময় এলাকার জল চূর্ণী নদী পর্যন্ত বিভিন্ন কাঁচা ড্রেন বা নিচু জায়গা দিয়ে চলে যেত। কিন্তু বর্তমানে সড়ক সম্প্রসারণের কারণে সেই পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। নিকাশির বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় ভারী বৃষ্টি হলেই ভেসে যাচ্ছে রানাঘাটের এই গ্রামীণ এলাকাগুলি। এরই প্রতিবাদে শনিবার সকালে গড়ের বাগান এলাকায় ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন সাধারণ মানুষ। কৃষ্ণনগর ও কল্যাণীমুখী লেন দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তারা সড়ক অবরোধ তুলবেন না এই দাবিতে রাস্তায় বসে যান অবরোধকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রানাঘাট থানার পুলিস। তারা অবরোধ তোলার চেষ্টা করলেও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন। প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে যায় রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি। দু’দিকেই গাড়ির লম্বা লাইন দাঁড়িয়ে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। কলকাতা অথবা কৃষ্ণনগরের দিকে যাওয়ার পথে চূড়ান্ত ভোগান্তির শিকার হন বহু মানুষ।
হবিবপুরের বাসিন্দা সুকমল সরকার বলেন, বহুবার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার পরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বাড়ির ভিতর জল ঢুকে যাচ্ছে। বসবাস করার ন্যূনতম অবস্থাটুকু নেই। রাস্তায় হাঁটু অথবা কোমর সমান জল। এলাকার অনেকেই বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। শেষ পর্যন্ত কোনও উপায় না দেখে জাতীয় সড়ক অবরোধের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। তোতন দত্ত নামে আরও এক অবরোধকারী বলেন, আমি দু’দিন ধরে ঘরছাড়া। এলাকায় শতাধিক বাড়ি জলের তলায়। বাড়িতে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে। জল জমার পর বেরনোর কোনও পথ নেই। এভাবে মানুষ বসবাস করতে পারে? তাই আমরা অবরোধ করেছি যাতে প্রশাসন পদক্ষেপ নেয়।
দীর্ঘক্ষণ পুলিস বিক্ষোভকারীদের বুঝিয়ে অবরোধ তোলার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে আসে ব্লক প্রশাসন। তাদের তরফে জমা জল বের করতে বেশকিছু জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি করার কাজ শুরু হয়। কাজ শুরু হয়েছে দেখার পর গ্রামবাসীরা অবরোধ তুলে নেন। তবে জাতীয় সড়কে তৈরি হওয়া যানজট ছাড়াতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে পুলিসকে। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয় যান চলাচল। -নিজস্ব চিত্র