নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রায়না, ভাতার, জামালপুর, মেমারি-২, মঙ্গলকোট সহ পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষের জমি জলের তলায় চলে গিয়েছে। চারদিন আগেও জলের জন্য চাষিরা হাহাকার করছিলেন। সাবমার্সিবল থেকে জল তুলে তাঁরা কোনওরকমে ধান বীজ রোপণ করেছিলেন। দু’দিনের ভারী বৃষ্টি সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে। সদ্য রোপণ করা জমিগুলি নষ্ট হয়ে যাবে। দ্বিতীয়বার রোপণ করতে হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ বীজ নেই। শেষ পর্যন্ত কী হবে তা ভেবে তাঁরা কুলকিনারা পাচ্ছেন না।
শনিবার রায়নার মিরেপোতা এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, বিস্তীর্ণ এলাকার জমি জলের তলায় রয়েছে। চাষিরা বলেন, যেসব জমিতে ১৫-১৭ দিন আগে ধানগাছের চারা রোপণ করা হয়েছিল সেখানে তেমন ক্ষতি হবে না। কিন্তু চার-পাঁচ দিনের মধ্যে যেসব জমিতে বীজ রোপণ করা হয়েছিল সেগুলি নষ্ট হয়ে যাবে। জল নামতে সাত থেকে আটদিন সময় লাগবে। এরমধ্যে ডিভিসি জল ছাড়লে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। রায়নার চাষি সেন্টু দাস বলেন, চাষিরা প্রকৃতির রোষে পড়েছেন। এবার জলের অভাবে বীজতলা তৈরি করতে বেগ পেতে হয়েছিল। বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বীজতলার ক্ষতি পর্যন্ত হচ্ছিল। জলের অভাবে চাষ পিছিয়ে গিয়েছিল। এখন আবার এত জল যে মাঠের চিহ্ন নেই। জল না নামলে বাকি চাষ করা যাবে না। আর যেসব জমিতে বীজ রোপণ করা হয়েছে সেগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। নতুন করে রোয়ার জন্য বীজ পাওয়া কঠিন হবে।
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ৩৭শতাংশর বেশি জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। ১৫আগস্টের মধ্যে রোপণের কাজ শেষ না হলে ফলন মার খাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে তার আগে জমি থেকে জল নেমে যাবে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। বীজ নিয়ে যে সমস্যা হতে পারে, সেকথা কৃষিদপ্তরও মনে করছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, জল না ছাড়ার জন্য শুক্রবার আমরা ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলাম। তারা সেদিনের মতো জল ছাড়া বন্ধ রেখেছিল। শনিবার ফের ডিভিসি জল ছেড়েছে। তাতে অনেক এলাকায় আবার জল বেড়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তবে চাষের জমির ক্ষতির পরিমাণ ঠিক করতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে। জল না নামলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে না।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১২টি ব্লক সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই সমস্ত এলাকায় চাষের জমির ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি অনেক বাড়িতেও জল ঢুকেছে। চাষিরা বলেন, বীজের অভাবে সব জমিতে ধান রোপণ না করা গেলে রাজ্যের ‘শস্যগোলা’ ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়বে। এবছর অতিবৃষ্টির জন্য আলু চাষিরা ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এবার একই কারণে ধান চাষিদের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে।