ঝুমি নদীর জল বাড়ায় ঘাটালের একাংশে বন্যা পরিস্থিতি, বহু রাস্তাই ভেসে গিয়েছে
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঝুমি নদীর জলস্ফীতির ফলে ঘাটাল ব্লকের একাংশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ওই ব্লকের চারটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে শুরু করেছে। রাস্তাঘাটও ডুবে যাওয়ার ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। ঘাটাল ব্লকের বিপর্যয় মোকাবিলা আধিকারিক (বিডিএমও) ত্রিদিব রায় বলেন, বৃহস্পতিবার থেকেই ঝুমি নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। দ্বারকেশ্বর নদীর জলের চাপ বাড়ার জন্য আমাদের ব্লকের কয়েকটি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গ্রামপঞ্চয়েতগুলিতে আগে থেকেই ত্রিপল পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পরিবারগুলিকে উদ্ধার করার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। আমরা সমস্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছি। বৃহস্পতিবার থেকেই ঝুমি নদীর জল বাড়তে শুরু করে। সেই জল বাড়ার হার অনেকটাই বেড়ে যায় শুক্রবার রাত থেকে। ফলে ঝুমি নদী সংলগ্ন ঘাটাল ব্লকের মনশুকা-১, মনশুকা-২, ইড়পালা, সুলতানপুর গ্রামপঞ্চায়েতগুলি বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঝুমি নদীর জলস্ফীতি হওয়ার কারণে ঘাটাল-আরামবাগ রাস্তাটি বকুলতলার কাছে একাংশ জলের তলায়। ডুবে যাওয়া রাস্তাটি পারাপারের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামপঞ্চায়েত থেকে নৌকার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। খড়ার শহর থেকে যে রাস্তাটি মনশুকা গঞ্জ গিয়েছে, সেই রাস্তারও প্রায় আধ কিলোমিটার অংশ জলের তলায়। গ্রামের বহু রাস্তা ডুবে যাওয়ার কারণে ওই গ্রামপঞ্চায়েতগুলির বেশ কিছু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাত থেকে ঝুমি নদীর উপর যে বাঁশের সাঁকোগুলি ছিল, পানার চাপে তা সবই ভেঙে গিয়েছে। বিডিএমও বলেন, এক দিকে নদীতে তীব্র স্রোত। অন্য দিকে নদীতে পানা। পানাতে ইঞ্জিন চালিত নৌকাগুলি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। শনিবারই ঝুমি নদীতে একটি নৌকার পাখাতে পানা জড়িয়ে যাওয়ার ফলে নৌকাটি যাত্রী নিয়ে অনেক দূর চলে গিয়েছিল। পরে নিরাপদে সবাইকে ফিরিয়ে আনা হয়। ওই কারণে নদীতে নৌকা চালানো যাচ্ছে না। নদীর একদিকের বাসিন্দারা অন্যদিকে যেতে পারছেন না। তবে ঘাটাল মহকুমার কংসাবতী ও শিলাবতী নদীর জল বিপদ সীমার অনেক নীচে রয়েছে। তাই ঘাটাল পুরসভার ওয়ার্ডগুলিতে এখনও শিলাবতীর জল প্রবেশ করেনি। আর যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে ঘাটাল মহকুমায় বন্যা নিয়ে সে অর্থে উদ্বেগের কোনও কারণ থাকবে না বলে মহকুমা প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। ঝুমি নদীরও জল আজ রবিবার থেকে কমতে পারে বলে আশাকরা হচ্ছে।