মাটির রাস্তায় হাঁটুজল, নবদ্বীপ ও ইদ্রাকপুরের যোগাযোগে সমস্যা
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: ঘোর বর্ষায় নবদ্বীপ শহর ও ইদ্রাকপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে অসমাপ্ত সেতুর উপর প্লাইউড পেতে যোগাযোগ চালু রাখার চেষ্টা করছে সেচদপ্তর। তবে ওই বিকল্প রাস্তা দিয়ে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ছাড়ি গঙ্গার কারণে নবদ্বীপ শহর থেকে এতদিন প্রায় বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো ছিল ইদ্রাকপুর। এবার পাকা রাস্তার মাধ্যমে সংযুক্ত হওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সেজন্য ছাড়িগঙ্গার জলস্রোত বজায় রেখে ৪০ মিটারের সেতু তৈরি হচ্ছে। তার দু’দিকে ৩০ মিটার করে অ্যাপ্রোচ রোড তৈরি হবে। গ্রামবাসীদের যাতায়াতের জন্য ওই সেতুর নীচ দিয়ে অস্থায়ী মাটির রাস্তা তৈরি হয়েছিল। দু’তিনদিনের ভারী বৃষ্টিতে ছাড়ি গঙ্গায় জল বেড়ে গিয়েছে। ফলে সেই মাটির রাস্তায় এখন হাঁটুর উপরে জল। রাস্তার বেশ কিছু অংশ ভেঙে গিয়েছে। ফলে স্কুল-কলেজের পড়ুয়া, হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যাওয়া মানুষ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন।
সেজন্য শনিবার সকালে অসমাপ্ত সেতুর উপর প্লাইউড পেতে রাস্তা চালু হয়েছে। ফলে কয়েকহাজার গ্রামবাসী উপকৃত হয়েছেন। তবে এখন হেঁটে অথবা সাইকেল, মোটরবাইক নিয়ে ওই প্লাইউডের উপর দিয়ে যাতায়াত করা যাচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই ভারী যানবাহন এখনও নদী পেরিয়ে যাতায়াত করতে পারছে না।
মায়াপুর-বামুনপুকুর ২ পঞ্চায়েতের অধীনে চারদিকে নদীবেষ্টিত গ্রাম ইদ্রাকপুর। প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। বেশিরভাগ মানুষ কৃষিজীবী। একসময় তাঁদের নৌকায় নবদ্বীপে আসতে হতো। প্রায় ১০ বছর আগে গ্রামবাসীরা ছাড়ি গঙ্গায় মাটি ফেলে ৫০০ মিটার মাটির রাস্তা তৈরি করেছিলেন। ওই রাস্তার মাঝামাঝি জায়গায় সেচ দপ্তর ১০০ মিটার কাজ শুরু করেছে। এর মধ্যে ৪০ মিটার সেতু আর দু’দিকে ৩০ মিটার করে অ্যাপ্রোচ রোড হবে। নবদ্বীপ পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি তাপস ঘোষ বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ছাড়ি গঙ্গায় জল বেড়েছে। ফলে সেতুর নীচের রাস্তায় হাঁটুজল দাঁড়িয়ে গিয়েছে। সেচদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে সেতুতে প্লাইউড ফেলে পথচারী ও দু’চাকার যান চলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিন বা চারচাকার গাড়ি সেখান দিয়ে চলতে পারবে না।- নিজস্ব চিত্র