• করিমপুরে সাপের উপদ্রব বাড়লেও মৃত্যুর ঘটনা কমেছে
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • সংবাদদাতা, করিমপুর: গত দু’মাসে সাপের উপদ্রব বেড়েছে। সাপের ছোবল খাওয়ার ঘটনাও বেড়ে গিয়েছে। তবু সর্পাঘাতে মৃত্যুর ঘটনা কমে গিয়েছে। তার অন্যতম কারণ, করিমপুর ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে সচেতনতা বেড়েছে। জুন ও জুলাই মাসে শুধুমাত্র করিমপুর গ্রামীণ হাসপাতালেই প্রায় ১২০জন সাপের ছোবল খেয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁরা সবাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। সাপের ছোবল খেলে ওঝা বা গুণিনের বদলে হাসপাতালেই রোগীকে নিয়ে যাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।


    করিমপুর নেচার কেয়ার সোসাইটির সদস্য তথা জগন্নাথ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক তরুণ পোদ্দার বলেন, যে কোনও সাপের ছোবল খাওয়া রোগীকে সঠিকসময়ে অ্যান্টি ভেনাম দিতে পারলেই বাঁচানো সম্ভব। তাই এমন রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। প্রায় ১৫ বছর ধরে আমরা শিবির করে গ্রামে গ্রামে মানুষকে বোঝাচ্ছি। মানুষ আগের তুলনায় সচেতন হয়েছেন।


    সর্পপ্রেমীরা জানান, এখন বর্ষার মরশুমে খাল-বিল, গর্তে জল জমতেই লোকালয়ে সাপের উপদ্রব বাড়বে। এটা সাপের প্রজননের সময়। এখন সাপের ডিম ফুটে বাচ্চা হবে। তারা খাবারের সন্ধানে বা শুকনো জায়গার খোঁজে লোকালয়ে ঢুকবে।


    নেচার কেয়ার সোসাইটির সদস্য গোলক বিশ্বাস বলেন, সাপ নিরিবিলি জায়গায় থাকতে পছন্দ করে। তাই করিমপুরে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের নো ম্যানস ল্যান্ডের আশপাশের গ্রামে সাপের উপদ্রব বেশি। গত কয়েকমাসে ঘরের মেঝে, শৌচাগার, এমনকী, শোয়ার ঘর থেকেও সাপ উদ্ধার হয়েছে।


    এই এলাকায় কালাচ ও খরিশ সাপ বেশি দেখা যায়। বিষধর কালাচ সাপ মানুষের বসতির কাছাকাছি থাকতে পছন্দ করে। বৃষ্টি হলেই ঘরে ঢুকে বিছানা বা বালিস, তোষকের নীচে ঢুকে পড়ে। বেশিরভাগ সময়ে কালাচের ছোবলের চিহ্ন  পাওয়া যায় না। জ্বালা-যন্ত্রণাও হয় না। ফলে ঠিকসময়ে হাসপাতালে না যাওয়ায় মানুষের মৃত্যু হয়। সেজন্য রাতে বিছানায় মশারি ব্যবহার করতে হবে। অন্ধকার জায়গায় গেলে সঙ্গে বাতি নিতে হবে। চিকিৎসকরা জানান, কাউকে সাপে কাটলে ওঝার কাছে না গিয়ে তাড়াতাড়ি স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। এখন প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অ্যান্টি ভেনাম মজুত থাকে। - প্রতীকী চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)