• দিনবাজারে শ্যুটআউটের ১১দিন পরও অধরা দুষ্কৃতীরা
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: শহরের প্রাণকেন্দ্র দিনবাজারে শ্যুটআউটের ১১ দিন পরও অধরা দুষ্কৃতীরা। ডাকাতির চেষ্টা নাকি কোনও লেনদেনের জন্য এসেছিল দুষ্কৃতীরা, তা নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহ পুলিসের। এখনও কিনারা করতে পারেননি তদন্তকারী অফিসাররা। একাধিক প্রশ্ন সামনে আসছে। রয়েছে নানা অসঙ্গতিও। ফলে ধোঁয়াশায় পুলিস। এদিকে, ওই ঘটনার পর থেকে শহরবাসীর মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন খোদ পুরপ্রধান পাপিয়া পাল। অবিলম্বে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে তিনি শনিবার জেলা পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপতের সঙ্গে দেখা করেন। সঙ্গে ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায় ও চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিল সন্দীপ মাহাত। জেলার পুলিস সুপার অবশ্য বলেছেন, তদন্ত চলছে। সঠিক সময়েই সবটা জানানো হবে।


    পুলিস সূত্রে খবর, যে তিন স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিল দুষ্কৃতীরা, তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ, তাঁদের তরফেও থানায় অভিযোগ জানানো হয়নি। যদিও পুলিস নিজেই এফআইআর দায়ের করে তদন্ত চালাচ্ছে।


    পুলিসকে যে বিষয়গুলি ভাবাচ্ছে, দুষ্কৃতীরা দু’টি গাড়ি নিয়ে এসেছিল। একটি গাড়ি রেখেছিল অনেকটা দূরে হাসপাতালের মর্গের সামনে। দুষ্কৃতীরা অন্য যে গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থলে আসে সেটি বিলাসবহুল। শুধু ডাকাতির ছক থাকলে এত দামি গাড়ি নিয়ে আসবে কেন দুষ্কৃতীরা? দ্বিতীয় খটকা, স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের তরফে পুলিসকে জানানো হয়েছে, বাড়ির প্রথম গেটে ছোট তালা দেওয়া ছিল। কিন্তু পুলিস তালা পায়নি। ভাঙা তালা নিশ্চয় দুষ্কৃতীরা নিয়ে যাবে না। পুলিসের তৃতীয় সন্দেহ দুষ্কৃতীদের কাছে থাকা একটি ব্যাগ। ঘটনাস্থলে একটি বাদে সমস্ত সিসি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। যাদের বাড়ি বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও ঘটনার রাতে বন্ধ রাখা হয়েছিল। পুলিসের দাবি তাঁরা জানিয়েছেন, রাতে বাজ পড়ে ক্যামেরা খারাপ হয়ে যেতে পারে, এজন্য বন্ধ রেখেছিলেন তাঁরা। চালু থাকা একটি ক্যামেরাতেই ধরা পড়ে দুষ্কৃতীদের ছবি। কিন্তু সেসময় বৃষ্টি হচ্ছিল। ফলে খুবই অস্পষ্ট ছবি। গাড়ির নম্বর প্লেট বোঝা যাচ্ছে না। তবে পরে শহরের সিসি ক্যামেরা খতিয়ে দেখে পুলিস জানতে পারে, দুষ্কৃতীরা পাহাড়পুর দিয়ে ঢুকেছিল। ওই পথ দিয়েই বেরিয়ে যায়।


    পুলিস সূত্রে খবর, সম্পর্কে তিন ভাই, যে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিল দুষ্কৃতীরা, তাঁরা সোনা বন্ধকীর ব্যবসা করেন। এটা তাঁদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যবসা। কিন্তু তাঁদের আর কোনও কারবার আছে কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিস। ঘটনাটি ঘটে রাত ২টো ৫ মিনিট নাগাদ। তিন মিনিটের মধ্যে পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পুলিসকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। তারপর গাড়ি নিয়ে পালায়। পুলিসের ধারণা, দিনবাজার এলাকায় বা আশেপাশে কোনও মাদক বা চোরাই সোনার কারবারি থাকতে পারে। বড় লেনদেনের জন্যই হয়ত সেই রাতে দুষ্কৃতীরা জমায়েত হয়েছিল। - নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)