• ১ লক্ষ কিউসেক জল ছাড়ল ডিভিসি, দক্ষিণবঙ্গজুড়ে বন্যা পরিস্থিতি
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত দু’-তিনদিনে দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতদিন শুকনো পড়ে থাকা নদীনালা-খালবিল এখন জলে টইটম্বুর। দুই বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, বীরভূম, নদীয়া জেলার বিস্তীর্ণ অংশ শুক্রবারই জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। এর মধ্যে রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসি তাদের মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে বিপুল পরিমাণে জল ছাড়তে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে তৈরি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতি। শনিবার দুপুরে দু’টি ব্যারেজ থেকে ৭৫ হাজার কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে। ডিভিসি জানিয়ে দিয়েছে, জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে রাতে ১ লক্ষ কিউসেক করা হয়। বৃষ্টির জলের সঙ্গে এই জল দুর্গাপুর ব্যারেজ হয়ে নেমে এলে বাঁকুড়া, দুই বর্ধমান, হাওড়া ও হুগলি জেলার বিস্তীর্ণ অংশ বানভাসি হবে বলে আশঙ্কা। 


    রাজ্যকে না জানিয়ে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার তাঁর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর, জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে নবান্নে বৈঠক করেন মুখ্যসচিব বি পি গোপালিকা। ডিভিসি কর্তৃপক্ষকে একসঙ্গে বেশি জল না ছেড়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ধাপে ধাপে জল ছাড়তে অনুরোধ করা হয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবার ভরা কোটাল থাকায় চিন্তা আরও বেড়েছে। জোয়ারের সময় ডিভিসির ছাড়া জল নেমে এলে গোঘাট, খানাকুল, উদয়নারায়ণপুর, আমতা প্রভৃতি এলাকা প্লাবিত হবে। 


    এদিন বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য পরামর্শদাতা আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে অতিবৃষ্টির কারণে হড়পা বানের আশঙ্কা থাকায় প্রশাসন সতর্ক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সব সময় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।’ ডিভিসি যে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করে জল ছেড়েছে, আলাপনবাবুই তা জানান। তবে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, পরিস্থিতি অনুযায়ী জল ছাড়া হচ্ছে। ঝাড়খণ্ডে ডিভিসির ‘ক্যাচমেন্ট’ এলাকায় প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। জলাধারের জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় জল ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে তারা।


    এদিকে, অতিবৃষ্টিতে উদ্ভূত পরিস্থিতির জেরে পশ্চিম বর্ধমানে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে কল্যাণপুর হাউজিং এলাকায় গাড়ুই নদীর ব্রিজ পেরতে গিয়ে একটি গাড়ি স্রোতে ভেসে যায়। শনিবার সকালে চালকের মৃতদেহ সহ গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। ডিপুপাড়া এলাকায় ওই নদীতেই তলিয়ে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া, কালীপাহাড়ি এলাকায় ইসিএলের এক কর্মী জলে ডুবে মারা গিয়েছেন। পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও নদীয়া জেলায় প্রচুর ঘরবাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত। জলের তলায় চলে গিয়েছে বহু কৃষিজমি। 


    আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, নিম্নচাপটি বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ও সংলগ্ন বিহারের উপর অবস্থান করলেও সেটি দুর্বল হয়ে উত্তরপ্রদেশ-মধ্যপ্রদেশের দিকে চলে যাবে। তাই আগামী দিন দু’য়েক দক্ষিণবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম। মঙ্গলবার বৃষ্টির মাত্রা ফের বাড়তে পারে। 
  • Link to this news (বর্তমান)