• মহিলা রেঞ্জ অফিসারের সঙ্গে অভব্যতা মন্ত্রী অখিলের
    বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক ও কলকাতা: বনদপ্তরের জমি থেকে দখলদার হটাতে গিয়ে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্যের রোষানলে পড়লেন মহিলা রেঞ্জ অফিসার। শনিবার সকালে এমনই ঘটনার সাক্ষী রইল রামনগর বিধানসভার অন্তর্গত সমুদ্র সংলগ্ন তাজপুর। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের কারামন্ত্রী অখিল গিরি যে অভব্য ভাষায় রেঞ্জ অফিসার মণীষা সাউকে ‘গালিগালাজ’ ও ডাং (লাঠি) ‘পেটানো’র হুমকি দিয়েছেন, তা নিয়ে তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। পাশাপাশি গোটা বিষয়টি নিয়ে কাল, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দরবারে নালিশ জানাবেন। একইসঙ্গে ওই রেঞ্জ অফিসারকে ফোন করে সাহসও জুগিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, দপ্তরের নির্দেশে, দপ্তরের কাজে গিয়েছিলেন ওই রেঞ্জার। সর্বতোভাবে তাঁর পাশে রয়েছে দপ্তর। 


    এর আগে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু সম্পর্কে কটু মন্তব্য করে দেশজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক অখিল গিরি। দলীয় সহকর্মীর সেই কুরুচিকর মন্তব্যের জেরে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে প্রকাশ্যে দুঃখপ্রকাশ করতে হয়েছিল। সেই অখিল গিরিকে নিয়েই ফের তুমুল আলোড়ন শুরু হয়েছে তৃণমূলের অন্দরে। কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘কারামন্ত্রীর আচরণ ভর্ৎসনাযোগ্য। দল এটা অনুমোদন করে না।’ অবৈধ দখলদারদের হয়ে সওয়াল করতে যাওয়া মন্ত্রী অখিলবাবু কিন্তু সেসব প্রসঙ্গ তুলছেন না। নেই কোনও আক্ষেপও। উল্টে তাঁর সাফাই, ‘বনদপ্তরের সবাই চোর। ঝাউগাছ কেটে বিক্রি করে দিচ্ছে। তারই প্রতিবাদ করতে গিয়েছিলাম।’


    গত ২০ জুলাই ভরা কোটালের জলোচ্ছ্বাসে তাজপুর সমুদ্রপাড়ের ১৫টি দোকান তলিয়ে যায়। গত বুধবার ওই জায়গা থেকে প্রায় ৫০ মিটার দূরে বনদপ্তরের জায়গায় নতুন করে দোকানগুলির কাঠামো তৈরি করা হয়। কিন্তু তাতে আপত্তি জানায় বনদপ্তর। এমনকী পরেরদিন রাতে ওই কাঠামোগুলি ভেঙে দেওয়া হয়। শুক্রবার দিনভর তা নিয়ে দু’পক্ষের বিবাদ হয়। শনিবার সকালে রণংদেহী চেহারায় ঘটনাস্থলে পৌঁছন অখিলবাবু। দলবলের সামনে ডিএফওকে ফোন করে বলেন, ‘রেঞ্জারকে পাঠান।’ কিন্তু জেদ ধরে থাকেন রেঞ্জার। তাঁর দাবি ছিল, মন্ত্রীকেই আসতে হবে। এরপর রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে সেখানে পৌঁছন অখিল। হুঁশিয়ারি দেন, ‘সবাইকে নিয়ে চলুন। নইলে বেশিদিন থাকতে পারবেন না। আয়ু আর ৮-১০ দিন। এত ক্ষমতা! রাষ্ট্রপতির মতো ক্ষমতা ফলাচ্ছেন। ২৫ ফুট এরিয়া (বনদপ্তর) মাত্র নিলাম। এর ভিতরে ঢুকলে ফিরে যেতে পারবেন না। আপনি বেয়াদপ। যখন ডাং দিয়ে পেটানো হবে, বুঝবেন।’
  • Link to this news (বর্তমান)