লঙ্গরখানার খিচুড়ি আর ঝর্নার জলেই প্রাণ বাঁচল মাটিগাড়ার ২৯ তীর্থযাত্রীর
বর্তমান | ০৪ আগস্ট ২০২৪
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চারদিকে ঘন অন্ধকার। তারই মাঝে দুর্গম পাহাড়, জঙ্গল, ভয়াল নদীর তাণ্ডব উপেক্ষা করে হেঁটে চলছেন ন’জন। প্রতিপদেই যেন মৃত্যুর হাতছানি। দেখা দিয়েছে পানীয়জল ও খাবারের সঙ্কট। দলের সকলেই ক্লান্ত। এই পরিস্থিতিতেই শনিবার ভোরে কেদারনাথ থেকে সীতাপুরে এসে পৌঁছয় পুণ্যার্থীর দলটি। খিদে, তৃষ্ণায় ছটফট করেছেন সকলেই। শেষ পর্যন্ত লঙ্গরখানার খিচুড়ি আর ঝর্নার জল মেলার পর স্বস্তি মেলে সকলের। এভাবেই প্রাণে বেঁচে ফিরছেন শিলিগুড়ি মহকুমার মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের ২৯ জন পুণ্যার্থী। এমনিতেই বুধবার থেকে তিন রাত কেটেছে খোলা আকাশের নীচেই। প্রায় সকলের সঙ্গে থাকা নগদ টাকাও ফুরিয়ে এসেছে। কিছু টাকা অবশিষ্ট থাকলেও খাওয়ার পরিস্থিতি নেই। বিপর্যয়ের জেরে বন্ধ হোটেল, দোকানপাট। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে খোলা লঙ্গরখানার খিচুড়ি আর ঝর্নার জলই তাঁদের প্রাণ বাঁচিয়েছে।
পুণ্যার্থীরা জানিয়েছেন, শোনপ্রয়াগের মন্দাকিনীর প্রবল জলোচ্ছ্বাসের তাণ্ডব উপেক্ষা করে প্রাণ হাতে শুক্রবার রাতেই সীতাপুর পৌঁছে গিয়েছেন ২০ জন। মন্দাকিনীর ওপারে আটকে পড়েন দলের বাকি নয় সদস্য। শুক্রবার রাতভর দুর্গম পাহাড়, নদী, ঝর্না পেরিয়ে শনিবার ভোরে বাকিদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় সকলের। বৃহস্পতিবার থেকে টিভিতে উত্তরাখণ্ডের ধ্বংসলীলার ছবি দেখে পাথরঘাটায় আতঙ্কে রাত কেটেছে পরিজনের। কিন্তু যোগাযোগ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তবে সমস্ত উৎকণ্ঠা কাটিয়ে শনিবার ভোরে তাঁরা হরিদ্বার হয়ে বাড়ি ফিরছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে বুধবার তাঁরা বাড়ি ফিরবেন।
দলের সঙ্গে থাকা নির্মল বিশ্বকর্মা মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আকাশ ভেঙে বৃষ্টি কিন্তু পানীয় জলের অভাব। ঝর্নার জল আর লঙ্গরখানার খিচুড়ি আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। কেদারনাথ দর্শন করে শুক্রবার সন্ধ্যায় শোনপ্রয়াগের কাছে মন্দাকিনী পার হওয়ার সময় ফের নদীর তাণ্ডবের সামনে পড়তে হয়। ২০ জন কোনওমতে ওপারে চলে যায়। আমরা ন’জন ওপারে আটকে পড়ি।’ তিনি বলেন, ‘কোনওমতে পাহাড়, জঙ্গল নদী ডিঙিয়ে পথ চলা শুরু করি। শনিবার ভোরে দলের বাকি ২০ জনের সঙ্গে মিলিত হই। এদিন দুপুরে সীতাপুর থেকে হরিদ্বারের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আমরা সবাই বুধবার বাড়ি ফিরব।’